আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের গল্পে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন লিওনেল মেসি, আনহেল দি মারিয়া কিংবা এমিলিয়ানো মার্তিনেজরা।
তবে সাফল্যের নেপথ্যে থাকা নির্ভরযোগ্য যোদ্ধাদের তালিকায় নিঃসন্দেহে জায়গা করে নিয়েছেন নিকোলাস তাগলিয়াফিকো।
২০২২ সালে কাতারে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার এবার জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের শেষ বিশ্বকাপ খেলার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
৩৩ বছর বয়সী এই লেফট-ব্যাক সম্প্রতি নিজের সরাসরি সম্প্রচার অনুষ্ঠানে এসে আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।
সেখানে তিনি জানান, ২০২৬ বিশ্বকাপ সম্ভবত তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। একই সঙ্গে টানা দুই বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার অভিজ্ঞতা নিয়েও নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন তিনি।
২০২২ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ২০২৬ বিশ্বকাপেও ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা।
তবে এবার তাদের শেষ করতে হয়েছে রানার্সআপ হয়ে। তাগলিয়াফিকোর কাছে এই পরাজয় কষ্টের হলেও টানা দুই বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠাকে তিনি বড় অর্জন হিসেবেই দেখছেন।
তাগলিয়াফিকো বলেন, ২০২২ সালের সোনার পদকের পাশাপাশি এবার তাদের ঝুলিতে যুক্ত হয়েছে রুপার পদক। তাঁর মতে, টানা দুই বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছানো মোটেও সহজ কোনো বিষয় নয়। তাই পরাজয়ের হতাশার পাশাপাশি পুরো যাত্রাটাকেও মূল্যায়ন করা উচিত।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি যে মাত্র এক মাসের বিষয় নয়, সেটিও স্পষ্ট করেছেন আর্জেন্টিনার এই ডিফেন্ডার। তাঁর মতে, একটি বিশ্বকাপের জন্য একজন ফুটবলারকে আগের আসর শেষ হওয়ার পর থেকেই পরবর্তী চার বছরের প্রস্তুতি শুরু করতে হয়। শারীরিক সক্ষমতা, ক্লাব ফুটবলে পারফরম্যান্স এবং ধারাবাহিকতা,সবকিছুর ওপর দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে হয়।
আর্জেন্টিনার হয়ে এখন পর্যন্ত ৮৩টি ম্যাচ খেলেছেন তাগলিয়াফিকো। জাতীয় দলের হয়ে ১০০ ম্যাচ খেলার স্বপ্ন থাকলেও সেটি পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন না তিনি।
বরং ২০২৬ বিশ্বকাপকেই নিজের শেষ বিশ্বকাপ হিসেবে ধরে নিয়েছেন এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার।
তবে ফুটবল থেকে পুরোপুরি দূরে সরে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই তাঁর। খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হওয়ার পর কোচিং পেশায় যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তাগলিয়াফিকোর। ফলে আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাঁর অধ্যায় শেষের পথে হলেও ফুটবলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শেষ হচ্ছে না।




