২০১৭ সালে একবার ডাক পেয়েছিলেন ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লীগের জন্য৷ তবে সেবার শাহরুখ খানের দলে ডাক পেয়েও খেলা হয়নি ম্যাচ।
৯ বছর পর আবারো সিপিএলে মেহেদী হাসান মিরাজ। এবার শুরুর দিনই তাকে দেখা গেলো মাঠে। আর সেখানেই বাজিমাত এই অফস্পিনিং অলরাউন্ডারের। বল হাতে জাদু দেখিয়ে তুলে নেন ৩ উইকেট, এনে দেন গায়ানার জয়
আফগান অলরাউন্ডার মোহম্মদ নবীর বদলে দলে আসেন মিরাজ। এসেই মিরাজকে রাখা হয় শুরুর একাদশে। আর সেখানেই ফর্মে থাকা নবীর অভাব বুঝতে দেননি মিরাজ, বিশেষ করে বল হাতে থাকেন দুর্দান্ত।
৮ বলে ১২ রান করা জন ক্যাম্পবেল চড়াও হতে গিয়েছিলেন মিরাজের বল৷ তবে বাউন্ডারি লাইনে সাম্পসনের হাতে ধরা পড়েন এই বাহাতি ব্যাটার। সেখান থেকেই শুরু মিরাজের উইকেট যাত্রা।
এরপর মিরাজের বলে লেফ বিফোরে পড়েন আরেক বাহাতি কেমল স্যাভারি৷ মাত্র দুই রান করে ফিরে যান তিনি।
তবে লঙ্কান চারিথ আসালঙ্কা বিপদ হতে পারতেন গায়ানার জন্য। এই লঙ্কান ব্যাটারকেও ফেরান মিরাজ।
মিরাজের করা স্পিনে ঠিকভাবে ব্যাটে লাগাতে পারেননি আসালঙ্কা, এজ হয়ে ক্যাচ দেন কিপার শাই হোপকে। আর সেখানেই যেন ভেঙে যায় সেন্ট লুসিয়ার ব্যাটিং স্তম্ভ।
যে কারণে শুরুর ৭ অভারে ৮ করে রান তোলা সেন্ট লুসিয়া ইনিংস শেষ করে ৬ এর কম রানরেটে।
কারণ ৭ম অভারে এসেই ক্যাম্পবেলের উইকেট নিয়ে তাদের মোমেন্টাম ভেঙে দেন মিরাজ। এরপর মাঝে কোন ব্যাটারকে দেননি দাড়াতে।
একদিকে যেমন রান চাপাতে থাকেন, আরেকদিকে নিতে থাকেন উইকেট। আর তাতেই যেন অর্ধেক জয়ের কাজটা পেয়ে যায় গায়ানা।
পুরো ম্যাচে ৪ অভার বোলিং করেছেন মিরাজ, রান দিয়েছেন ৪ এর কম ইকোনমিতে। মাত্র ৩.২৫ ইকোনমিতে ১৩ রান দিয়েছেন চার অভারে, তুলে নিয়েছেন ৩ উইকেট৷
পুরো ম্যাচে তার চেয়ে কিপ্টে বোলিং করেননি কেউ, উইকেট শিকারেও মিরাজ আছেন দুই নাম্বারে। অভিষেকটা যেন দুর্দান্তই করলেন মিরাজ।
এর আগে লঙ্কা প্রিমিয়ার লীগে সুযোগ পেলেও ভালো করেননি। এবার যেন নিজেকে প্রমাণ করলেন মেহেদী মিরাজ।
বাইরের ফ্রাঞ্চাইজী লীগে এমন পারফর্মেঞ্চই প্রত্যাশা করে দেশের ভক্তরা। এতে নতুন করে খুলে যায় আরো খেলোয়াড়দের দরজা, বাংলাদেশের ক্রিকেটেরও বাড়ে খ্যাতি। আগামী দিনেও এই পারফরম্যান্স অব্যাহত রাখবেন মিরাজ, এটাই আশা সকল ভক্তদের।




