২০২৭ সালের আইপিএল সামনে রেখে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে নিলাম নিয়ে আলোচনা। আগামী ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে বসতে পারে এবারের মিনি নিলামের আসর।
তবে নিলামকে ঘিরে শুধু ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর পরিকল্পনাই নয়, বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ নিয়েও তৈরি হয়েছে কৌতূহল।
এবারের নিলাম ভারতের মাটিতেই আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যদিও ভারতের কোন শহরে নিলাম অনুষ্ঠিত হবে, সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর থাকার ব্যবস্থা, হোটেলের পর্যাপ্ত কক্ষ এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধাকে গুরুত্ব দিয়েই ভেন্যু নির্ধারণ করা হবে।
তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এবারের নিলামে বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা নিজেদের নাম নিবন্ধন করবেন কি না।
গত মৌসুমে বাংলাদেশ থেকে আইপিএলে সুযোগ পেয়েছিলেন শুধু মোস্তাফিজুর রহমান। কলকাতার হয়ে খেলতে নাম লেখানো এই পেসারকে ঘিরে পরে তৈরি হয় নানা আলোচনা।
শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টের আগেই তাকে নিয়ে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির কারণে আইপিএল থেকে তার বিদায় ঘটে। ঘটনাটি দুই দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।এক পর্যায়ে এর প্রতিবাদ হিসেবে ভারতেই বিশ্বকাপ খেলতে যায়নি বাংলাদেশ।
এরপর থেকেই আইপিএলে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশেষ করে এবার মোস্তাফিজুর রহমানের পাশাপাশি নাহিদ রানার মতো সম্ভাবনাময় ক্রিকেটাররা নিলামে নাম দেবেন কি না, সেটিই দেখার বিষয়। কারণ আইপিএলে সুযোগ পাওয়া যেমন ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারে বড় মঞ্চ এনে দেয়, তেমনি সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার কারণে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অন্য বিষয়ও বিবেচনায় আসতে পারে।
এত কিছুর আইপিএলে কেও নাম দিলেও,ফ্রাঞ্চাইজিগুলো বাংলাদেশীদের দলে নিতে দুবার ভাববে।একইভাবে এই আসরে নাম দেওয়া নিয়ে বাংলাদেশীদেরও আত্মমর্যাদায় বাধা স্বাভাবিক।
এর আগে ২০২৩ সালে ভারতের কোচিতে হয়েছিল আইপিএলের নিলাম। এরপর টানা তিন বছর ভারতের বাইরে হয়েছে এই আয়োজন।
দুবাই, জেদ্দা ও আবুধাবিতে বসেছিল নিলামের আসর। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর বিদেশে গিয়ে নিলামে অংশ নেওয়ার বাড়তি খরচ ও ব্যবস্থাপনার জটিলতার কারণে এবার ভারতে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ২০২৭ সালের আইপিএলে ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ নিয়ম থাকবে কি না, সেটিও এখনো নিশ্চিত নয়। আগামী এক মাসের মধ্যে গভর্নিং কাউন্সিলের পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
সব মিলিয়ে নিলামের দিন যত এগিয়ে আসবে, ততই বাড়বে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা।
শেষ পর্যন্ত মোস্তাফিজ, নাহিদ রানাসহ অন্যরা নিজেদের নাম নিবন্ধন করেন কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্তরা।




