বয়স ৩৮ পেরিয়েছে। ক্যারিয়ারের সোনালি সময় অনেক আগেই পেছনে ফেলে এসেছেন। তবুও মাঠে নামলেই যেন পুরোনো সেই জাদুর ঝলক দেখা যায় অ্যাঞ্জেল ডি-মারিয়ার পায়ে।
গতি হয়তো আগের মতো নেই, কিন্তু বাঁ পায়ের সেই নিখুঁত শট, বুদ্ধিদীপ্ত মুভমেন্ট আর বড় মুহূর্তে ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেওয়ার ক্ষমতা এখনো অটুট।
জাতীয় দলের খেলা ছেড়েছেন দুই বছরের মত। ইউরোপও ছেড়েছেন তখন, চলে এসেছেন নিজ দেশের ক্লাবে।
তবে একটা জিনিস ছাড়তে পারেননি এনহেল ডি মারিয়া। আর সেটা তার পারফর্মেঞ্চ। রোজারিও সেন্ট্রালে ফেরার পর থেকেই আর্জেন্টাইন তারকা প্রমাণ করে চলেছেন, বয়স শুধু একটি সংখ্যা। জাতীয় দলের জার্সিতে বিদায়ের পর এবার ক্লাব ফুটবলে নিজের শেষ অধ্যায়টাকেই যেন ডি মারিয়া রাঙাচ্ছেন নিজের রঙে।
সর্বশেষ ম্যাচেও নিজের ঝলক দেখান ডি মারিয়া। টাইগ্রির বিপক্ষে ম্যাচে ১০ জনের দল নিয়েও সেখানে জয় পায় রোজারিও সেন্ট্রাল। সেখানে ডি মারিয়ার গোলেই জয় পেয়েছে রোজারিও সেন্ট্রাল। ম্যাচের ৬০ মিনিটে দলের হয়ে একমাত্র গোল আসে ডি মারিয়ার পা থেকে।
সর্বশেষ ম্যাচে গোলের মধ্য দিয়ে মৌসুমে নিজের গোলসংখ্যাকে নিয়ে গেছেন দুই অঙ্কে।
এই মৌসুমে সব আসর মিলিয়ে ১০ গোল করেছেন ডি মারিয়া, সাথে আছে মোট ৫ এসিস্ট। ক্লাবের হয়ে মৌসুমে সর্বোচ্চ গোল ও সর্বোচ্চ এসিস্টও করেছেন ডি মারিয়া।
এমনকি ম্যাচপ্রতি রেটিংএও সবার সেরা তিনি। ৩৮ বছর বয়সে এমন ধারাবাহিকতা যে কোনো ফুটবলারের জন্যই অসাধারণ।
ডি-মারিয়ার গল্পটা অবশ্য শুধু বয়সের সঙ্গে লড়াইয়ের নয়। ইউরোপের একের পর এক বড় ক্লাব মাতিয়ে, রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, পিএসজি থেকে জুভেন্টাস—সব জায়গাতেই নিজের ছাপ রেখেছেন তিনি।
আর্জেন্টিনার হয়েও জিতেছেন বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকা। এরপরও এই বয়সে যে পারফর্মেঞ্চ দেখাচ্ছেন, সেটাই তার আসল প্রতিভার প্রমাণ করে।
তাই প্রশ্নটা এখন শুধু ডি-মারিয়া আর কতদিন খেলবেন, সেটি নয়। বরং যতদিন খেলছেন, ততদিন তার বাঁ পায়ের জাদু দিয়ে আর কত গল্প লেখা হবে সেটিই এখন দেখার বিষয়।
৩৮ বছর বয়সে যখন অনেক তারকাই ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে বেঞ্চের ভূমিকা মেনে নেন, তখন ডি-মারিয়া এখনো দলের ম্যাচ জেতানোর অন্যতম বড় অস্ত্র।
বিশ্বকাপে ডি মারিয়াকে মিস করেছে আর্জেন্টিনা,এ কথাও অস্বীকার করার উপায় নেই। ২০২৬ বিশ্বকাপে আলবিসেলেস্তে শেষ পর্যন্ত ফাইনালে উঠলেও শিরোপা জেতা হয়নি।
বড় ম্যাচে এমন একজন ফুটবলারের অভাব তখন আরও বেশি অনুভূত হয়েছে, যিনি মুহূর্তের মধ্যে ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারেন।
আর্জেন্টিনা দলে মেসি মারিয়া অধ্যায় আর নেই। তবে এই দুইজনকে ভুলতে পারবেননা কোন আলভিসেলেস্তা ভক্তরা। বরং যতদিন আছেন, এই দুইজনের দিকে নজর আবধারিতভাবে থাকবে সবার।




