ফুটবল মাঠে তারকা হওয়ার পাশাপাশি মাঠের বাইরেও মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বারবার প্রশংসিত হয়েছেন সাদিও মানে।
নিজের শেকড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এবার আরও বড় উদ্যোগ নিয়েছেন সেনেগালের এই তারকা। নিজের জন্মস্থান বাম্বালিতে প্রায় ২ কোটি মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি কৃষিভিত্তিক প্রকল্প হাতে নিয়েছেন তিনি।
‘এসএম১০ অ্যাগ্রো’ নামের এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য স্থানীয় কৃষিকে আরও শক্তিশালী করা এবং আম প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করা।
শুধু ব্যবসায়িক উদ্যোগ হিসেবে নয়, নিজের এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ গড়ার মাধ্যম হিসেবেই এটিকে দেখছেন মানে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রকল্পটির আওতায় প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে একটি বড় কৃষি খামার গড়ে তোলা হবে।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে সরাসরি এক হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে। এর বাইরে পরিবহন, পণ্য সরবরাহ ও অন্যান্য সহযোগী কার্যক্রমের মাধ্যমে আরও মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হবে।
নিজের বিনিয়োগের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মানে জানিয়েছেন, সেনেগালের মাটির সম্পদ যেন দেশের মানুষের কাছেই থাকে, সেটিই তার অন্যতম লক্ষ্য।
বিশেষ করে নিজের এলাকার তরুণ ও নারীদের জন্য শিক্ষা এবং অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে চান তিনি।
বাম্বালির মানুষের জন্য মানের কাজ অবশ্য নতুন নয়। করোনাভাইরাস মহামারির সময় সেনেগালের কোভিড মোকাবিলায় বড় অঙ্কের অর্থ সহায়তা করেছিলেন তিনি।
একই সঙ্গে নিজের জন্মস্থান বাম্বালিতে একটি সরকারি হাসপাতাল নির্মাণেও অর্থায়ন করেন। হাসপাতালটিতে মাতৃত্বকালীন চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থাও রয়েছে।
ফুটবল থেকে পাওয়া খ্যাতি ও অর্থকে নিজের এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় মানে।
এবার কৃষি, কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতিকে ঘিরে নেওয়া এই বড় প্রকল্প তার সেই কর্মকাণ্ডকে আরও বিস্তৃত করল।
তাই প্রশ্নটা উঠতেই পারে, সাদিও মানের জীবনটা কি শুধু ফুটবলেই সীমাবদ্ধ? মাঠের বাইরের কর্মকাণ্ড দেখলে বরং মনে হয়, নিজের সাফল্যের একটি বড় অংশ তিনি ফিরিয়ে দিতে চান নিজের মানুষের কাছেই।




