মাঠে গোল করে অসংখ্যবার মানুষকে আনন্দ দিয়েছেন লিওনেল মেসি। এবার কোনো গোল নয়, মাঠের বাইরের এক মানবিক কাজ দিয়ে আবারও মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
মাঠের সুপারস্টার এবার বাস্তব জীবনেও শিশুদের জন্য এলেন নায়ক হিসেবে। ইউনিসেফের সাথে এবার শিশুদের সেবায় এগিয়ে এলেন লিওনেল মেসি, দান করলেন মোট ৩৬ কোটি টাকা।
শিশুদের ক্যানসারের চিকিৎসায় বার্সেলোনায় একটি বিশাল হাসপাতাল কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হচ্ছে।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘ফুট মেরকাতো’র বরাত দিয়ে আরেক মাধ্যম গোল জানিয়েছে, স্পেনের বার্সেলোনায় নির্মিত হতে যাওয়া এই চিকিৎসাকেন্দ্রের লক্ষ্য ক্যানসারে আক্রান্ত শিশুদের জন্য আরও উন্নত ও সমন্বিত চিকিৎসা নিশ্চিত করা। ‘সান্ত জোয়ান দে দেউ’ নামের এই চিকিৎসা কেন্দ্রটি বছরে অন্তত ৪০০ জন রোগীর চিকিৎসা দিতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে বিভিন্ন মাধ্যমে।
এবার সেই চিকিৎসালয়েই অনুদান ইন্টার মায়ামি তারকার। যেখানে ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দুত হিসেবে ২৬ লাখ ইউরো দান করেছেন লিওনেল মেসি।
বাংলাদেশের টাকায় যে অর্থ দাঁড়াবে ৩৬ কোটি টাকা। একদিকে ইউনিসেফের দুত হিসেবে কাজ করা, আবার এই হাসপাতালও তৈরি হচ্ছে মেসির দীর্ঘদিনের ক্লাব বার্সেলোনায়। সবকিছুই যেন নতুনভাবে উদ্বেলিত করেছে লিওনেল মেসির এই মানবিক স্বত্তাকে।
তবে এবারই যে প্রথম মানবিক মেসির দিকটা দেখা গেছে, এমনটা মোটেই নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মেসির সঙ্গে যুক্ত থাকা একাধিক দাতব্য কর্মকাণ্ডের তালিকায় এটি সর্বশেষ সংযোজন। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও খেলাধুলাসহ বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগে মেসির সম্পৃক্ততা রয়েছে।
মেসি ফাউন্ডেশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শিশুদের জন্য বিভিন্ন প্রকল্পে মেসি সহায়তা করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে শৈশবের লিউকেমিয়া নিয়ে গবেষণায় সহায়তা, তার জন্মস্থান আর্জেন্টিনার রোসারিওর একটি হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রদান এবং মোজাম্বিকে শিশুদের অপুষ্টি মোকাবিলায় একটি প্রকল্পে সহায়তা সহ নানা মহৎ উদ্যেগে এসেছে লিওনেল মেসির নাম।
ফুটবল তাকে দিয়েছে বিশ্বজোড়া খ্যাতি। সেই খ্যাতিকে শুধু নিজের মধ্যে আটকে না রেখে মানুষের জন্য কাজে লাগানোর চেষ্টা মেসির।
অন্তত এমনটাই প্রতিফলিত হয় তার বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগে। বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তার সম্পৃক্ততা বারবার সামনে এসেছে ভক্তদের কাছে।
মাঠে তার বাঁ পায়ের জাদু মানুষকে আনন্দ দেয়, আর মাঠের বাইরে এমন উদ্যোগ হয়তো অনেক পরিবারের জন্য এনে দেয় নতুন আশার আলো। সেখানেই যেন মেসির আরেকটি জয়৷ যে জয়ের স্কোরবোর্ডে গোল নয়, লেখা থাকে মানুষের হাসি।




