ব্রাজিলের ফেরাটা যেন প্রত্যাশামতো হলো না। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে জয় বঞ্চিত পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের প্রথমার্ধে গোলের দেখা না পেলেও দ্বিতীয়ার্ধে অস্ট্রেলিয়ার আক্রমণের সামনে শেষ পর্যন্ত আর নিজেদের ধরে রাখতে পারেনি ব্রাজিল।
এর আগে মাঠের বেহাল দশা, একাধিক সুযোগ এবং ভিএআরের নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে গোলশূন্যভাবে শেষ হয়েছিল প্রথমার্ধ।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ইরানকুন্ডা বারবার বাঁ দিক দিয়ে উঠে ব্রাজিলের রক্ষণে অস্বস্তি তৈরি করেন।
তার একটি শট ব্লক হয়, আরেকটি আক্রমণে তার ক্রস থেকেও কাঙ্ক্ষিত সুযোগ তৈরি হয়নি। কর্নার থেকে সাউটারও অস্ট্রেলিয়াকে এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু তার হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
অন্যদিকে ব্রাজিলের আক্রমণভাগেও ছিল একাধিক সুযোগ। এন্ড্রিক পেনাল্টি এলাকায় ঢোকার সময় হেরিংটনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ালে ফাউলের দাবি তোলে ব্রাজিল।
তবে ভিএআর পর্যালোচনার পর কোনো বড় সিদ্ধান্ত আসেনি। পরে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শটও সহজেই ঠেকিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক।
প্রথমার্ধের শেষদিকে ব্রাজিল চাপ বাড়ায়। একের পর এক ওয়ান টাচ পাসে অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণে ফাঁক তৈরি করার চেষ্টা করে তারা।
ব্রুনো গিমারায়েসের একটি শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। এরপর ব্রাজিলের আরেক আক্রমণ থেকে এসতেভাও বল জালে পাঠালেও গোলটি টেকেনি।
অস্ট্রেলিয়ার আপত্তির পর ভিএআর পর্যালোচনা করে গোলটি বাতিল করেন রেফারি। রিপ্লেতে দেখা যায়, গোলের আগে পেনাল্টি এলাকার প্রান্তে সাউটারকে ফাউল করা হয়েছিল। ফলে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হারায় ব্রাজিল।
প্রথমার্ধে গোল না হলেও ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে পরিস্থিতি বদলে যায়। অস্ট্রেলিয়া নিজেদের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্রাজিলকে চাপে ফেলে এবং শেষ পর্যন্ত ম্যাচ নিজেদের করে নেয়। অন্যদিকে ব্রাজিলের আক্রমণ থাকলেও তা কাঙ্ক্ষিত ফল এনে দিতে পারেনি তখনো।
আর ম্যাচের অন্যতম আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে মাঠের অবস্থা। খেলা চলার সময়ই পিচের বিভিন্ন অংশ উঠে যেতে দেখা যায়। দ্য গার্ডিয়ানের লাইভ প্রতিবেদনে ম্যাচের ৪৭ মিনিটে মাঠের খেলার পৃষ্ঠের বেহাল দশা নিয়ে মন্তব্য করা হয়।
মাঠের ঘাস উঠে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য পিচের প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় বঞ্চিত হয়ে মাঠ ছাড়লো ব্রাজিল।
তবে নিজেদের সেরা রুপে ফেরারই অঙ্গিকার দিয়েছিলেন কার্লো আনচেলত্তি।




