আমেরিকান সিয়াতল সান্ডার্স একাডেমি থেকে আসা ৬ ফুট উচ্চতার সাইফ কেরওয়ালাকে মনে ধরলোনা বাংলাদেশ দলের।
মনে ধরলো দেশের হয়ে একাধিকবার দেয়াল হয়ে আসা আনিসুর রহমান জিকোকে। ভাবা হচ্ছিল হয়তবা এর চেয়ে শক্তিশালী বিকল্প আছে বাংলাদেশ দলে। কিন্ত গোলবারে এবার মানবতার ফেরিওয়ালা নিয়ে এলো বাংলাদেশ দল। প্রতিপক্ষের প্রতি শটেই গোল হজম যেন তার কাজ।
মালেশিয়ার বিপক্ষে ১৮ মিনিটে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ দল। ডিবক্সের একদম কর্নার থেকে বল পান মালেশিয়ার আইমান।
সেখানে শাকিল আহমেদ তপুর দুর্বল মার্কিংএ আইমান শট নেওয়ার সুযোগ পান। কিন্ত সেই শটটা এতটা দারুণ না, যে গোল হতে হবে।
আবার নিয়ার পোষ্টে থাকা গোলরক্ষককে একজন মার্কিংএ থেকে শট করছেন, স্বাভাবিকভাবেই যে কেউ আসা করবে এমন শট খুব সাবলীলভাবেই ফেরাবেন গোলরক্ষক। তবে বাংলার অতিমানবীয় গোলরক্ষক শ্রাবণ এমন মুহুর্তে নিজের অবতার প্রকাশ করলেন। সবাইকে অবাক করে দিয়েই তিনি করলেন গোল হজম।
৩৮ মিনিটে আবারো আইমানের গোল, এবার বাংলাদেশের খেলোয়াড় থেকে বল নিয়ে গোল করেন জোহার দারুল তাজিমের এই তারকা।
সে গোলে শ্রাবণ যেভাবে এগিয়ে এসেছিলেন, ভাবা হচ্ছিল এবার বুঝি বোধ উদয় হবে তার। তবে অনেকটা কোনদিকে না তাকিয়েই এগিয়ে এসেছেন শ্রাবণ, আর সেখানে আইমানের শটের উত্তর না পেয়ে হজম করেন আরো এক গোল।
দ্বিতীয় গোলেও শ্রাবণকে ক্ষমা করা যায়, তবে সেটা তৃতীয় গোলে নিশ্চয়ই নয়। ৫৮ মিনিটে ডিবক্সের সামনে থেকে পাস পান মালেশিয়ার স্ট্রাইকার বার্গসন।
তবে সেখানে নিজের বডি পজিশন সেরকম সুবিধাজনক ছিলনা বার্গসন। অনেকটা ঘুরে এসে কোনরকম পায়ে লাগিয়ে ঠেলে দেন জালের দিকে।
যেকোন গোলরক্ষকের এই বল নিশ্চিতে ধরারই কথা। অন্তত যদি ধরা নাও যায়, এই বল সেভ করতে পারার কথা সাধারণ ফুটবল খেলা কোন গোলরক্ষকের। তবে আন্তজার্তিক ফুটবলে এসে এমন শটে গোল হজম করেন শ্রাবণ। ম্যাচে বাংলাদেশকে হজম করান থ্রি পিচ।
মালেশিয়ার বিপক্ষে আশিয়ান গেমসের শুরুর ম্যাচে হতশ্রী চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। তবে কথায় আছে যেখানে বাঘের ভয়, সেখানেই রাত পোহায়।
গোলবার আর ডিফেন্স নিয়ে যে শঙ্কা ছিল, সেটাই শেষ পর্যন্ত হলো সত্যি। শ্রাবণরা এমন সুযোগ পেতে থাকলে বাংলাদেশের ফুটবল যে চোরাবালির মাঝেই আটকা থাকবে, তাতে নেই কোন সন্দেহ।




