বলা হয়ে থাকে, আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমি মার্টিনেজের সামনে সবাই ভোগেন স্নায়ুচাপে। বিশেষ করে টাইব্রেকের সময়ে এমিকে যেন কোনভাবে পরাস্ত করা যায়না। যে কারণে বেশ কয়েকটি টুর্নামেন্টের সাফল্য এসেছে আর্জেন্টিনার। বিশ্বকাপ থেকে কোপা আমেরিকা, এই আসরগুলোতে একাধিকবার টাইব্রেকের মুখোমুখি হয়েছে আর্জেন্টিনা। আর সেখানে আর্জেন্টিনাকে জয় এনে দেন এমি মার্টিনেজ। একাধিকবার প্রতিপক্ষের পেনাল্টি ঠেকিয়ে করেন বিজয় উল্লাস।
তবে শুধু এমি নয়, আর্জেন্টিনার টাইব্রেকে অপ্রতিরোধ্য আরো একজন গোলরক্ষক আছেন। তিনি সার্জিও রোমেরো। আর্জেন্টাইন এই গোলরক্ষকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কারণ নেই অনেকের কাছে। ২০১৪ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ফাইনালে যাওয়ার পিছনে বড় অবদান ছিল রোমেরো। সেই সময় আর্জেন্টিনা দলের দেয়াল ছিলেন তিনি। বর্তমানে জাতীয় দলে থাকলেও পুরোনো জাদু ভুলেননি রোমেরো। এখনও আছেন দুর্ভেদ্য দেয়াল হিসেবে।

সব মিলিয়ে বিভিন্ন টুর্নামেন্টের টাইব্রেক ও ম্যাচের পেনাল্টি মিলিয়ে রোমেরো তার বর্তমান ক্লাব বোকা জুনিয়ার্সের হয়ে ৩২ পেনাল্টির মুখোমুখি হয়েছেন। এর মাঝে ১৫ পেনাল্টি ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। অর্থ্যাৎ প্রায় ৫০ ভাগ পেনাল্টি ফিরিয়েছেন রোমেরো।
রোমেরোর কল্যাণে গত কোপা লিপার্তোদেসের আসরের ফাইনাল খেলে বোকা জুনিয়ার্স। শক্তিশালী দল না হলেও সেবার রোমেরোর অনেকটা একক কল্যাণেই এই আসরের ফাইনাল খেলে বোকা। বোকার হয়ে নকআউটের একাধিক ম্যাচে টাইব্রেকে দলকে বাচান রোমেরো।

এই সিজনেও রোমেরো মোট ১ বার পেনাল্টি ফেস করেছেন ম্যাচে। তবে সেই পেনাল্টি ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। এই দুই সিজনে মাঠের খেলায় ২ বার পেনাল্টি ফিরিয়েছেন। এর বাইরে ক্যারিয়ারে ৪৮ পেনাল্টি ফেস করে ১৪ বারই ফিরিয়ে দিয়েছেন। তবে সবচেয়ে বেশি সফলতা দেখিয়েছেন টাইব্রেকে। সেখানেই একের পর এক শট ফিরিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ফলে পরিণত হচ্ছেন বোকা জুনিয়ার্সের দেয়ালে।
রোমেরোর এই টাইব্রেকে সাফল্যের তথ্য প্রকাশ করেছে বিডি আলভিসেলস্তারা। আর্জেন্টিনা ও বাংলাদেশের সমন্বয়ে এই পেজটিই জানিয়েছেন বোকার হয়ে রোমেরোর এই সাফল্য। পেনাল্টিতে যে দক্ষ দেয়াল তিনি, সেটাই যেন তুলে ধরেছে তারা।
এর আগে জাতীয় দলে ডাক পাওয়া নিয়ে গুঞ্জন উঠেছিল রোমেরো। সেবার ডাক না পেলেও পারফর্মেঞ্চ দিয়ে এখনও আছেন নজরে। তবে দলে ডাক না পেলেও রোমেরো প্রমাণ করেছেন, যোগ্যতা থাকলে যেকোন বয়সেই পারফর্মেঞ্চ করা যায়। বরং দিনে দিনে নিজেকে ছাপিয়ে উঠা যায় অনন্য উচ্চতায়।




