ফুটবল শারীরিক লড়াই এর খেলা। মাঠের ফুটবলে শারীরিক ও ফুটবলীয় দক্ষতায় যারা এগিয়ে থাকবেন, তারাই দিনশেষে জয়ী হন। বাহ্যিক দৃষ্টিতে এটাই সত্য। তবে আধুনিক দিনে এই সত্য সবসময় কার্যকয় নয়। ফুটবল যতটা শারীরিক ও দক্ষতার, ততটাই মানসিক খেলা। এই মানসিক দিক থেকে এগিয়ে থাকা একজন কতটা এগিয়ে যেতে পারে, তা রিয়াল মাদ্রিদ ক্লাবের দিকে তাকালেই হয়ত বুঝতে পারবেন, হয়ত বুঝবেন মেসি, রোনালদোদের অদম্য মানসিকতা দেখেও।

সেই মানসিকভাবেই যেন অনেক দূরে ছিলেন ভিটর রক। স্বপ্নের ক্লাবে এসে দুস্বপ্নের মত সময় কাটাচ্ছিলেন তিনি। ব্রাজিল যুব দলের হয়ে নিয়মিত গোল করেছেন, এরপর গোল করেছেন তার ক্লাবের হয়ে। ছিলেন ইউরোপের অনেক ক্লাবের নজরে, তবে শেষ পর্যন্ত টাইগারিনহো এসেছেন স্বপ্নের ক্লাব বার্সেলোনায়। এসে দুই গোলও করেছিলেন, পরে জানলেন তিনি নাকি নেই কোচের প্লানে। এমনকি কোচও নাকি চায়না তাকে।বাধ্য হয়ে এই সিজনে আসলেন লোনে। আর সেখানেই বদলে গেলেন রক।
এর আগে ইন্টারন্যাশনাল ব্রেকে ব্রাজিলের যুব দলের হয়ে দুই গোল করেছিলেন। সেখানেই জানান শেষ ৬-৭ মাস হাসেননি তিনি। গোল করে যেন সেই হাসিই ফিরে পেলেন রক। আর তার প্রতিফলন দেখা গেলো রিয়াল বেটিসের হয়ে পরবর্তী ম্যাচেই। বদলি নেমে রিয়াল বেটিসের হয়ে খেললেন মাত্র ২৮ মিনিট। আর তাতেই আদায় করে নিলেন এক গোল। যে গোলে লেগানেসের বিরুদ্ধে জয় নিশ্চিত হয় বেটিসের।
এই গোল আদায়ে যেন আরো উচ্ছাসিত রক। নিজেকে যেন নতুন করে ফিরে পেয়েছেন তিনি। এমনটাই তিনি জানালেন ম্যাচ শেষে। শুধু তাই নয়, গোলের ধারা অব্যাহত রাখতে চান। সামনের দিনে আরো কাজ করতে চান ও এই সিজনে কমপক্ষে করতে চান আরো ১০ গোল।
ব্রাজিলে যুব দলের হয়ে ৮ ম্যাচে ৬ গোল করেছেন। ব্রাজিলের লীগে এথলেটিকো পারানেসের হয়ে এক সিজনেই করেন ৪৫ ম্যাচে ২১ গোল। রকের গোল স্কোরিং নিয়ে কারো কোন সন্দেহ নেই। বার্সায় এসেও স্বল্প সুযোগ পেয়ে নিজেকে মেলে ধরেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত কোচের দ্বন্দে আর নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি।
কোচ জাভি রকের থেকে সেরাটা আদায় করতে পারেননি, উলটো তাকে ঠেলে দিয়েছেন মানসিক অবসাদে। সে জায়গা থেকে ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টায় রক।আর তাতে অনেকটাই অনুমেয়, সমস্যার জায়গাটা আসলে বার্সেলোনাতেই। এই সমস্যা কাটিয়ে উঠে রক আরো দৃঢ়ভাবে ঘুরে দাড়াক, এটাই প্রত্যাশা সবার।




