সাদিও মানে রমজানে হেটে যাচ্ছিলেন,কিছু বাংলাদেশী তাকে বললেন আসো আমাদের সাথে খেতে আসো!
সাদিও মানে জিজ্ঞেস করলেন তোমরা কি আমাকে চিনো?তারা বললেন, ‘’না” তবে খেতে ডাকা আমাদের কর্তব্য।
সাদিও মানের মানবিকতা, বিনয় আর সহজ-সরল জীবনযাপন সবসময়ই আলোচনায় থাকে।
সম্প্রতি নিজের সৌদি অভিজ্ঞতার একটি ঘটনা শেয়ার করে তিনি আবারও ভক্তদের হৃদয় ছুঁয়ে দিয়েছেন। রমজানের একটি দিনের মর্মস্পর্শী সেই গল্পে উঠে এসেছে বাংলাদেশি প্রবাসীদের আতিথেয়তা, বিনয় আর মানবিকতার উদাহরণ।
মানের ভাষায়, একদিন রমজানে তিনি হেঁটে যাচ্ছিলেন। ঠিক তখনই রাস্তার পাশে খাবার খেতে থাকা কয়েকজন বাংলাদেশি শ্রমিক তাকে ডাকলেন,“ভাই, আমাদের সঙ্গে বসে খান।”
প্রথমে মজা করে মানে বলেছিলেন, “বন্ধুরা, তোমরা তো আমাকে চেনোই না!” কিন্তু তারা হেসে জবাব দিলেন, “চেনা-অচেনা কোনো বিষয় না, এখানে কেউ পাশ দিয়ে গেলে তাকে খাওয়ানোই রীতি।”
সাদিও মানে জানান, ওই শ্রমিকরা আদৌ জানতেন না তিনি কে। তবে তাদের আন্তরিকতা, আপ্যায়ন আর মানবিকতা তাকে গভীরভাবে ছুঁয়ে যায়।
মানের ভাষায়, “তারা আমাকে চিনত না, কিন্তু তাদের মনটিই সবচেয়ে বড়। এই সংস্কৃতি একসঙ্গে থাকা, ভাগ করে নেওয়া আমাকে সত্যিই স্পর্শ করেছে।”
অদ্ভুত এক মিল এখানেই,ছোটবেলায় চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হওয়া সাদিও মানে আজ লাখো মানুষের নায়ক।
নিজ গ্রামে তিনি করেছেন হাসপাতাল, স্কুল, দান করেছেন পরিবারের জন্য ঘর, অসংখ্য অসহায় মানুষকে নিয়মিত খাবার দেন।
গ্ল্যামার-ভরা ফুটবলজীবনের বাইরে এখনো তার জীবন রয়ে গেছে অত্যন্ত সাধারণ,বিলাসীহীন, মানবিকতার আলোয় উদ্ভাসিত।
আর সেই মানুষটিই কিনা সৌদিতে অভিবাসী বাংলাদেশিদের কাছ থেকে পেলেন অকৃত্রিম, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা।
মানের কথায়, “এই অভিজ্ঞতা আমার হৃদয়ে থেকে যাবে। মানুষ হিসেবে যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ,ভাগ করে নেওয়া,তারা আমাকে সেটাই মনে করিয়ে দিয়েছে।”
এক বিশ্বতারকার মনে বাংলাদেশি মানুষের এই ভালোবাসা যে গভীর ছাপ ফেলেছে, সেটাই যেন সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।




