“রোজা রেখে খেলতে কেমন লাগছে?” ম্যাচশেষে এমন প্রশ্ন ছিল সাংবাদিকদের। জবাবে লামিন জানালেন ঠিকঠাকই আছেন তিনি। লা লীগাতে লামিন মাঠে নেমেছিলেন ভিলারিয়ালের বিপক্ষে। বাংলাদেশ সময় ৯.১৫ তে হয় ম্যাচ, স্পেনের সময়ে যা বিকাল ৪.১৫। অর্থ্যাৎ রোজার পরন্ত বিকালেই মাঠে নামেন লামিন ইয়ামাল, সেটাও রোদের মাঝে দিনের ম্যাচ খেলতে।
ভাবা হচ্ছিল রোজা রেখে হয়ত এদিক ওদিক হতে পারে লামিনের পারফর্মেঞ্চ, তবে হলো তার বিপরীত। মুসলিম এই ফুটবলার রোজা রেখে দিলেন নিজের সেরা পারফর্মেঞ্চ। ভিলারিয়ালের বিপক্ষে লামিন ইয়ামাল দলকে শুধু জেতালেন না, তুলে নিলেন নিজের প্রথম হ্যাট্রিকও
২৮ মিনিটে করেন যার শুরু। ডিবক্সে বল পান লামিন ইয়ামাল, একাধিক ভিলারিয়াল খেলোয়াড় সেখানে থাকলেও তারা করতে পারেননি প্রতিরোধ। বা পায়ের নিখুত ফিনিশিংএ এগিয়ে নিয়ে যান দলকে।
এরপর ৩৭ মিনিটে আবারো গোল লামিনের। এবারের গোলটা বেশ নজরকাড়া। ডিবক্সের বাইরে থেকে একজনকে কাটিয়ে ঢুকেন লামিন। এরপর সেখানেই বল নেওয়ার জন্য ছিলেন আরেকজন ভিলারিয়াল ডিফেন্ডার। তার থেকেও বলটাকে নিজের কাছে রাখেন। সেখান থেকে দারুণ এক এঙ্গেলে করেন শট, যে শটে বল জড়ায় জালে।

দুই গোল দেওয়ার পর এক গোল হজম করে বার্সেলোনা, ম্যাচে গড়ায় উত্তেজনা। সেখানেও ত্রাতা হয়ে আসেন লামিন। ৬৯ মিনিটে এবার লামিনের ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাট্রিক। পেদ্রির ফিরে এসে ডিফেন্স ছেড়া পাস, আর সেখানেই বল যায় লামিনের কাছে৷ দারুণ এক বল পেয়ে মিস করেননি লামিন, নিজের ঠান্ডা মাথার শটে বল জড়ান জালে, করেন হ্যাট্রিক।
এর আগেও রোজার সময় খেলার কীর্তি আছে লামিনের। রোজা রেখে অনুশীলনের কথাও শোনা গিয়েছে। এমনকি তার জন্য বার্সেলোনাও আলাদা পরিকল্পনা সাজিয়েছিল এই সময়ে৷ তবে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। কেননা রোজার সময়েই খেলতে হচ্ছে পরন্ত বিকালে। কিন্ত এইসবের পরেও রোজার রাখার সিদ্ধান্তে নাছোড়বান্দা লামিন ইয়ামাল।
আর তারই পুরষ্কার পেলেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। প্রথম ম্যাচেই তুলে নিলেন হ্যাট্রিক, যা তার ক্যারিয়ারে এতদিন ছিল অপুর্ণতা। একইসাথে ৭৩ মিনিট খেলে দলকে অনেকটা জিতিয়ে ছাড়েন মাঠ। রোজা রেখে তাই ক্লান্ত বা দুর্বল হননি লামিন, বরং সবার থেকেই সম্মানিতই হয়েছেন। আর এটাই হতে পারে লামিনের আগামী দিনের বড় শক্তি।




