“আমি প্রান ফিরে পাওয়া মরা লাশ,
আমি সবুজ মাঠের দুর্বাঘাস!” কবির লেখাকে আরো একবার স্বার্থক করলেন নেইমার জুনিয়র।
জীবন যুদ্ধে বারবার পরে গিয়ে জয়ী হওয়া এই ফুটবলার জায়গা করে নিলেন বিশ্বকাপের স্কোয়াডে।
যিনি রাত জাগার কারন,যার খেলা দেখতে পৃথিবীর অন্যসব কাজকে বারন।সেই নেইমারই আছেন আনচেলত্তির চুড়ান্ত স্কোয়াডে।
কবিদের যত বিশেষণ, যত উপমা,
সব কিছু মিলিয়ে একটি পত্র লিখলেও হয়তো পুরো অনুভূতিটা ব্যাক্ত হবে না,ব্রাজিলের ভক্তদের।
ইঞ্জুরির আড়ালে রাখা শরীর নিয়ে যতটা দিয়েছেন ফুটবল বিশ্বকে,কিংবা গত প্রায় দেড় জুগে ব্যাক্তিগত পারফরম্যান্সে যতটা মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন তিনি, তা ফুটবল প্রেমীদের হাজারো রাত জাগার কারনতো অবশ্যই।কারো কারো জন্যেতো ফুটবলটা দেখার কারন তিনি।
একদিন আগেই,
ভিলা বেলরিমো স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর আগে মেয়েকে কোলে নিয়ে জাতীয় সংগীতের সময় দাঁড়িয়ে ছিলেন নেইমার। তখন তাকে চোখের পানি মুছতে দেখা যায়। ক্যারিয়ারের শুরু হওয়া ক্লাবের মাঠে এমন আবেগঘন দৃশ্য অনেক সমর্থককেই নাড়া দিয়েছে।
দীর্ঘ সময় সমালোচনার মুখে থাকা নেইমারের জন্য এটি ছিল ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত।
অবশ্য সেই আবেগের দাম পেয়েছেন তিনি,আছেন স্কোয়াডে।ভক্তদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার শেষ হয়েছে হাসিমুখেই।
১৯৯২ সালে ব্রাজিলের মগি দাস ক্রুজেসে জন্ম গ্রহণ করেন নেইমার।মাত্র ৯ বছর বয়সে পেলের স্মৃতিবিজড়িত ক্লাব সান্তোসে নাম লিখিয়েছিলেন। ২০১৩ মৌসুমে সান্তোসের সঙ্গে গাঁটছড়া ছিন্ন করে যোগ দিয়েছেন স্বপ্নের ক্লাব বার্সেলোনায় এরপর রেকর্ড গড়া দামে পাড়ি জমান পিএসজিতে,সেখান থেকে আল হিলালে।
আর আল হিলাল থেকে শুধুমাত্র বিশ্বকাপে সুযোগ নিশ্চিত করতেই নিজের শৈশবের ক্লাবে এসেছেন তিনি!
নানান চড়াই-উতরাই পার করে সফলও হয়েছেন।হয়তো এতক্ষনে আনন্দের অশ্রুতেই ভাসছে নেইমির দুচোখ।




