পেস বিপ্লব এসেছিল আগেই। আগের মত স্পিনারদের ধার না থাকলেও ফ্রন্টলাইনে আছে রিশাদ, শেখ মাহেদী বা তাইজুলদের মত স্পিনার। বোলিং আক্রমণে বাংলাদেশ সবসময়ই চ্যালেঞ্জ জানানোর মত দল৷ তবে ব্যাটিংটা যেন গলার কাটা ছিল টাইগারদের। বড় মঞ্চে এই ব্যাটিং দৈন্যতা বাংলাদেশকে ভুগিয়েছে বহুবার।
সেখান থেকে ব্যাট হাতে বাংলাদেশ পরাশক্তি হয়ে যায়নি, তবে উন্নতির ছাপ স্পষ্ট কয়েক মাস ধরে। আর সেখানেই আসে এক নাম। টাইগার ক্রিকেটে ব্যাটিং পরামর্শকের দায়িত্বে থাকা মোহম্মদ আশরাফুল, যার হাত ধরেই বাংলাদেশ পাচ্ছে নতুন সম্ভাবনা।
অডিয়াইতে মাঝে ৫০ অভার খেলাই দুরহ ছিল বাংলাদেশের। সেই বাংলাদেশ কিউইদের বিপক্ষে ব্যাট হাতে শাসন করেছে। এক ম্যাচে কলাপ্স বাদে সাম্প্রতিক দুই সিরিজেই উজ্জ্বল ছিল বাংলাদেশের ব্যাটিং। টি২০ সিরিজেও দেখা যায় বাংলাদেশের সাবলীল ব্যাটিং।
তবে এর পুর্ণতা আসে যেন পাকিস্তানের বিপক্ষে টেষ্ট সিরিজে। মিরপুরে প্রথম টেষ্টে ৪০০ পেরোয় বাংলাদেশের ইনিংস। দ্বিতীয় টেষ্টেও স্কোর ৪০০ এর কাছাকাছি যায়। টেষ্টের ৪ ইনিংসেই রানে পাকিস্তানকে পরাস্ত করে বাংলাদেশ, কোথাও বাংলাদেশকে সঠিক জবাব দিতে পারেনি শান মাসুদের দল।
টপ থেকে মিডল অর্ডার, সবাই আছেন রানের মাঝে। শান্ত, মমিনুল, মুশফিক বা লিটন, রান করছেন একজন আরেকজনের সাথে প্রতিযোগিতা করে। টেষ্টে এতটা সলিড ব্যাটিং কবে দেখেছে বাংলাদেশ?
দলের সাফল্যে আশরাফুল নিজেই এবার পোষ্ট দিলেন। লাল বল ও সাদা বলে সবাই ডমিনেট করার বিষয়টাও তুলে এনেছেন নিজের পোষ্টে। একটা সময় সেঞ্চুরি যেখানে ছিল সোনার হরিণ, সেখানে শেষ ৪ টেষ্টে বাংলাদেশ পেয়েছে ৭ সেঞ্চুরি। শোনা গিয়েছে ব্যাটসম্যানদের সেঞ্চুরি করতে উৎসাহিত করেন আশরাফুল, বাতলে দেন প্লান।
এর আগে একাধিক সাক্ষাৎকারে আশরাফুল জানান, নিজের ভুল থেকে কোচিংএ শিক্ষা নেওয়ার কথা। খেলোয়াড় আশরাফুল প্রতিভাবান ছিলেন, তবে সেই ফুলের পুর্ণ স্ফুটন হয়নি। পরিণত আশরাফুল তার ভুলগুলো জানেন। আর সেটাই শিক্ষা দিচ্ছে লিটন, শান্তদের। অন্তত তার মত প্রতিভাবান ব্যাটসম্যানরা যে আশরাফুলের টোটকায় উপকৃত হচ্ছে, সেটা অনেকটা দৃশ্যমান।
খেলোয়াড় হিসেবে যতটা সফল আশরাফুল, কোচ হিসেবে এর শতগুণ করতে চাইবেন রঙিন। বাংলার ক্রিকেটের একসময়ের আশার ফুল আগামী দিনে হোক ব্যাট হাতের সেরা পদপ্রদর্শক, এমন আবদারই থাকবে দেশের কোটি ক্রিকেট ভক্তের।




