কথায় আছে “ মর্নিং শোজ দ্যা ডে”। সকালের সুর্য যেন বলে দেয় দিনের কথা। সেই কথাটাই যেন শতভাগ মিললো মারাকানা স্টেডিয়ামে। ঐতিহ্যবাহী স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের আগের ম্যাচে দর্শকদের চমকে দেয় ব্রাজিল। ম্যাচে তখনও পুর্ণ মনযোগ আসেনি অনেক দর্শকের। পানামাও ম্যাচ বুঝার চেষ্টা করে। তবে সেখানেই গোল আদায় ব্রাজিল দলের।
ক্যাসিমিরোর বাড়ানো বলে ডিবক্সের বাইরে থেকে ভিনিসিয়াসের শট, যার কোন উত্তর ছিল না পানামার গোলরক্ষক মস্কেরার কাছে। এই গোল প্রমাণ করে দেয় কার্লোর অধীনে ভিনি কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে। ম্যাচের শুরুতে এমন লিড ভক্তদের পুরো নজর এনে দেয় ম্যাচের দিকে।
তবে ১৪ মিনিটে ধাক্কা খায় ব্রাজিল। ডিবক্সের বাইরে থেকে ফ্রিকিক পায় পানামা দল। পানামার হয়ে সেই ফ্রিকিক নেন বেসিকতাসের আমির মুরিলো। তবে তার ফ্রিকিক সেভাবে ভয়ঙ্কর না হলেও সেটা এসে ঠেকে ব্রাজিলিয়ান ম্যাথুইস কুনহার গায়ে। আর সেখান থেকেই বল হারায় পথ, বলের পথ বুঝতে ভুল করেন ব্রাজিলের এলিসন বেকার। আর তাতে ম্যাচে সমতায় ফেরে পানামা দল।
তবে পানামার আনন্দ সেখানেই শেষ। প্রথমার্থেই সমতায় ফেরে ব্রাজিল দল। ৩৯ মিনিটে আবারো দুর্দান্ত ভিনিসিয়াস। এবার বামদিক থেকে একাধিক খেলোয়াড়কে বোকা বানিয়ে কাট ইন করেন এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। এরপর তার দুর্দান্ত ক্রসে অফসাইড এড়িয়ে মাথা ছুইয়ে দেন ক্যাসিমিরো। তাতে আবারো লিড পায় ব্রাজিল, লিড নিয়ে যায় বিরতিতে।
এদিন ব্রাজিলের জয়ের ভিত্তি গড়ে দেন ভিনিসিয়াস ও ক্যাসিমিরো। আর সেখান থেকে রায়ান, পাকুয়েতা, ইগরা ধ্বংস করে দেন প্রতিপক্ষকে। দ্বিতীয়ার্থে ১০ পরিবর্তন করেন কোচ কার্লো। আর তাতে কয়েকগুণ বেড়ে যায় খেলার গতি। তার ফলও পেতে শুরু করে ব্রাজিল দল।
ম্যাচের ৫৩ মিনিটে আসে ব্রাজিলের তৃতীয় গোল। ইগর থিয়াগোর প্রেসিংএ ভুল পাস দিতে বাধ্য হন পানামার গোলরক্ষক মস্কেরা। আর সেখান থেকেই জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের প্রথম গোল তুলে নেন বোর্নমাউথের উইঙ্গার রায়ান। এর ১০ মিনিট পর ইগর নিজেই তুলে নেন গোল। গত ম্যাচের পর এই ম্যাচেই পেনাল্টিতে নির্ভুল ইগর, নিজের আদায় করা পেনাল্টিতে করেন গোল। মাঝে গোল আদায় করেন ফ্ল্যামেঙ্গোর পাকুয়েতা, তার গোলে বাড়তে থাকে ব্রাজিলের লিড।
ফলে ৬৩ মিনিটে ৫ গোল দিয়ে প্রতিপক্ষকে চুর্ণ বিচুর্ণ করে দেয় ব্রাজিল দল। এরপরও আক্রমণের ধারা বজায় রাখে তারা, তবে লিড আর বাড়েনি। তাতে মোটেও অসুবিধা হওয়ার কথা না সেলেসাওদের। র্যাংকিং এর ৩১ এ থাকা দলের বিপক্ষে ৫ গোল দিয়ে এবার যেন নিজেদের লেভেলটাই জানান দিলো কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা, জানালো বিশ্বকাপের জন্য দল কতটা প্রস্তত।




