বিশ্বজুড়ে ব্রাজিল পরিচিত ফুটবলের দেশ হিসেবে। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এই দেশটি শুধু ফুটবল, সাম্বা কিংবা কার্নিভালের জন্যই নয়, বরং ধর্মীয় বৈচিত্র্যের কারণেও আলোচনায় থাকে।
খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হওয়া সত্ত্বেও ব্রাজিলে মুসলিম জনসংখ্যা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিলিস্তিনের পক্ষে দেশটির অবস্থানও মুসলিম বিশ্বে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে।
তাছাড়া যে ফুটবল নিয়ে দেশটি সবচেয়ে বেশি আলোচনায়,সেই ফুটবলেও সভাপতি একজন মুসলিম,যার নাম সামির সাউদ!
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং ব্রাজিলের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটিতে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৭ লাখ ৬৭ হাজার থেকে বেড়ে ১৫ লাখের আশেপাশে।
ইসলামিক সংগঠনগুলোর দাবি, প্রকৃত সংখ্যা ১৫ লাখের কাছাকাছি, যা ব্রাজিলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ০.৭ শতাংশ। যদিও এই সংখ্যা মোট জনসংখ্যার তুলনায় কম, তবে গত এক দশকে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিস্তার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে। প্রথমত, সিরিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অভিবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে ব্রাজিলে বসবাস করছেন।
দ্বিতীয়ত, স্থানীয় ব্রাজিলীয়দের মধ্যে ইসলাম গ্রহণের প্রবণতা বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ইসলামের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হওয়ায় অনেকেই এই ধর্ম গ্রহণ করছেন।
বর্তমানে ব্রাজিলজুড়ে প্রায় ১৫১টি মসজিদ এবং অসংখ্য ইসলামিক সেন্টার রয়েছে। সাও পাওলো, ফোজ দো ইগুয়াসু, কুরিতিবা, রিও ডি জেনেইরো ও ব্রাসিলিয়া মুসলিমদের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
এসব অঞ্চলে নিয়মিত ধর্মীয় কার্যক্রম, শিক্ষা কার্যক্রম এবং সামাজিক উদ্যোগ পরিচালিত হয়।
অন্যদিকে ফিলিস্তিন ইস্যুতেও ব্রাজিলের অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচিত।
দেশটির সরকার বহুবার ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। গাজা পরিস্থিতি নিয়েও ব্রাজিলের শীর্ষ নেতৃত্ব উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে।
সব মিলিয়ে ফুটবলের জন্য বিখ্যাত ব্রাজিলে মুসলিমদের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবিক ইস্যুতে দেশটির অবস্থানও মুসলিম বিশ্বের নজর কাড়ছে।
ফলে লাতিন আমেরিকার এই বৃহৎ রাষ্ট্রটি মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য ক্রমেই আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।




