রিভার্জ বেঞ্চে ডেভিড রায়া, যিনি এই আসরে ইপিএলের সেরা গোলরক্ষক। গত দুই মৌসুম ধরে আর্সেনালের হয়ে ইপিএলে সবচেয়ে কম গোল হজম করেছেন, এবার জিতেছেন ইপিএলের শিরোপা।
আরেকদিকে আছেন জোয়ান গার্সিয়া, যিনি এইবার বার্সেলোনার হয়ে জিতেছেন লা লীগার শিরোপা। গোলবারে এমন দুইজন বড় নাম ও পারফর্মার থাকা স্বত্তেও স্পেন কোচ বেছে নিলেন এথলেটিকো ক্লাবের উনাই সিমনকে। কেন বেছে নিলেন, সেটাই সিমন প্রমাণ করলেন এবার।
আসরে বেলজিয়ামের ডি কেটেলারে নিজেকে ভাগ্যবান বলতে পারেন, কেননা স্পেনের বিপক্ষে একমাত্র গোলটা তিনিই করেন।
এই কাজ যে করতে পারেননি এমবাপ্পে, ডেম্বেলে, রোনালদো, নুনেজের মত স্ট্রাইকাররা। আসরে সেরা দশ র্যাংকিং এর বিপক্ষে জোড়া ম্যাচ খেলেও এখন পর্যন্ত মাত্র এক গোল হজম স্পেনের। ডিফেন্স লাইনের সাথে এই কৃতিত্ব পাবেন উনাই সিমনও।
ফ্রাঞ্চের বিপক্ষেও এদিন দুর্দান্ত সিমন। এদিন ম্যাচে ৩ টি সেভ দিয়েছেন, পেয়েছেন ৮.২ রেটিং। কিন্ত সিমন যে ধরণের খেলা দেখিয়েছেন, সেটাই প্রমাণ করে স্পেন দলে তার গুরুত্ব। ১৯ টি পেস খেলেছেন, ৬ টি লং বল দিয়েছেন। একবার ডাইভিং সেভ দিয়েছেন, দেখিয়েছেন তার দক্ষতা।
তবে সুইপার হিসেবে ৩ বার কাজে সিমন দেখান আসল খেল। বিশেষ করে এমবাপ্পের বিপক্ষে মাঝমাঠে এসে যেভাবে বল ক্লিয়ার করলেন, সেটাই যেন বদলে দেয় ম্যাচের চিত্র।
এছাড়া ডেম্বেলে, ডুয়োদের বিপক্ষেও দারুণ পজিশন গড়ে তুলেন সিমন। পুরো ম্যাচে সিমনকে দেখে মনে হচ্ছিল প্রাইম নয়ার যেন এসেছে ফিরে।
তাই গোল্ডেন গ্লাভসের জন্য এমি মার্টিনেজকে এবার কঠিন পরীক্ষাই দিতে হবে। এমি মার্টিনেজ সেরকম ফর্মে নেই, তবে আর্জেন্টিনা পাচ্ছে একের পর এক জয়। যদিও এখনও এমির সামনে সুযোগ আছে আগামী ম্যাচে ঘুরে দাড়ানোর। বড় ম্যাচে নিজেকে প্রমাণ তো তিনি আগেও করেছেন। তবে উনাই সিমন যা করে যাচ্ছেন, এবার কাজটা মোটেও সহজ হচ্ছেনা এমির জন্য।
এই বিশ্বকাপের সেরা হওয়ার দাবিটা এখন পর্যন্ত তাই সিমনই রাখেন। বাজপাখির খেতাবটাও তাই সিমনের দিকেই যাবে। যদি স্পেন শিরোপা জয় করে, তবে অনেকটা নিশ্চিতভাবেই গ্লাভস যাচ্ছে সিমনের কাছে। তবে গ্লাভস না জিতলেও এই পুরষ্কারে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা নামই স্পেন।




