ম্যাচে সর্বোচ্চ ১০৪ বার টাচ। ম্যাচে সর্বোচ্চ ৪ শট৷ ম্যাচে ৯৮ ভাগ হারে ৮২ পাস। আচ্ছা এইসব পরিসংখ্যান আলাদা করা রাখা যাক।
ফুটবল গোলের খেলা। মিডফিল্ডাররা বলের পর বল দিবেন, পাস দিবেন, এরপর গোল না হলেও দায় আসবে দলের।
দ্বিতীয়ার্থে যেমন ৩ বিগ চাঞ্চের ২ টাই মিস করে আর্জেন্টিনা দল। এই সময়ে আর্জেন্টিনা ১৩ বার শট করে, টার্গেটেই থাকে ৫ শট। তবে গোল করেন একজন। তিনি এঞ্জো ফার্নান্দেজ
অনেকে বলেন রুপকথার গল্প প্রতিদিন হয়না। তবে সেটা হতে পারে, যদি আপনার গল্পে রাজা থাকে, সৈনিক থাকে, থাকে হার না মানা যোদ্ধারা।
তাহলে আপনি নিজেই রুপকথার মত সাজাতে পারেন আপনার গল্পকে। এঞ্জো ফার্নান্দেজ রাজা মহারাজা নয়, তবে বীরদের তালিকায় উপরের দিকেই থাকবেন। নিজের যোগ্যতা অনুসারে কাজটা জানেন। জানেন বলেই ৮৫ মিনিটে আর্জেন্টিনাকে সমতা ফেরাতে পেরেছেন। একদম সঠিক সময়েই উঠেছেন জ্বলে
কর্নার থেকে লিওনেল মেসির বাড়ানো বল। ডিবক্সের সামনে স্পেস এঞ্জো ফার্নান্দেজের সামনে। এঞ্জো একজন স্কোরার মিডফিল্ডার, যিনি গোল করতে ভালোবাসেন।
এঞ্জো লেট রান নিতে পারেন, দূর থেকে গোল করতে পারেন। তবে এইসব কথাকে শুধু কথায় রাখেননি এঞ্জো, কাজেও তার মুল্যয়ন দেখান। ৮৫ মিনিটে এঞ্জোর ডান পায়ের দুরপাল্লার শট, গোল আর্জেন্টিনা দলের।
তার আগে আর্জেন্টিনা পিছিয়ে ছিল ১-০ গোলে। আক্রমণের পর আক্রমণ হলেও গোল আসছিল না।
তবে ডিবক্সের বাইরে থেকে এঞ্জোর সেই গোলই আর্জেন্টিনাকে আশা দেখায়, ম্যাচে ফিরিয়ে আনে দুর্দান্তভাবে। এরপর লাউতারো মার্টিনেজ করেন জয়সুচক গোল। আরো একবার পিছিয়ে পড়ে রুপকথা আলভিসেলেস্তাদের।
এঞ্জো এই কাজ করেছেন আরো একবার, এই বিশ্বকাপেই। মিশরের বিপক্ষে লাউতারোর ক্রসে এঞ্জো দৌড়েছেন পুরো মাঠ।
এরপর এসে ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে করেছেন হেড। যেই হেডেই নির্ধারণ হয় ম্যাচের ফলাফল। ২ গোলে পিছিয়ে থেকে এঞ্জো সেদিন করেন জয়সুচক গোল। আজ এঞ্জো করলেন সমতাসুচক গোল। এ যেন আর্জেন্টিনা দলের যখনই প্রয়োজন, তখনই জ্বলে উঠছে এঞ্জোর পা
গত আসরের সেরা তরুণ এই আসরে আরো পরিণত। মাঝমাঠের ভরসা তিনি, আসরে আর্জেন্টিনার সেরা মিডফিল্ডারও।
লিওনেল মেসির সাহায্যের কাধ দরকার হতো, সেই কাধের ভুমিকায় এলেন এঞ্জো ফার্নান্দেজ। আর এক ধাপ দূরে এবার শিরোপা জয়ে চোখ আলভিসেলেস্তারা। ইতিহাস যে মাত্র হাতছোয়া দুরত্বে, এঞ্জোরা থাকলে আরো এক রুপকথা লিখতে কি ক্ষতি।




