লিওনেল মেসির তিন ছেলের মধ্যে বড় ছেলে থিয়াগো মেসির নাম অনেক আগে থেকেই ফুটবলপ্রেমীদের পরিচিত।
বাবার মতোই বল পায়ে দক্ষতার ঝলক দেখিয়ে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টে নজরও কেড়েছেন তিনি।
তবে সময় যত গড়াচ্ছে, ততই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসছে সবচেয়ে ছোট ছেলে চিরো মেসি। অনেকের চোখে, মেসি পরিবারের সবচেয়ে বড় প্রতিভা হয়তো এই ছোট্ট চিরোই।
অবশ্য বয়সের এই পর্যায়ে কাউকে ভবিষ্যতের মহাতারকা বলে ঘোষণা দেওয়া ঠিক হবে না।
কিন্তু মাঠে তার যেসব মুহূর্ত দেখা যাচ্ছে, সেগুলো ফুটবলপ্রেমীদের কল্পনাকে উসকে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
ছোট্ট বয়সেই ড্রিবলিং, বল নিয়ন্ত্রণ, জায়গা তৈরি করে গোল করার ক্ষমতা এবং আক্রমণভাগে তার স্বাভাবিক উপস্থিতি অনেকের নজর কেড়েছে।
সম্প্রতি ইন্টার মায়ামির বয়সভিত্তিক দলে চিরোর পারফরম্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
একের পর এক ম্যাচে গোল করে এবং আক্রমণে ধারাবাহিক প্রভাব রেখে সে দেখিয়েছে, গোলের সামনে তার আত্মবিশ্বাস বয়সের তুলনায় অনেক বেশি।
পরিসংখ্যানের দিক থেকেও আলোচনায় এগিয়ে চিরো। যদিও ইন্টার মায়ামি একাডেমির বয়সভিত্তিক দলের সব ম্যাচের অফিসিয়াল পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয় না, তবু যে টুর্নামেন্টগুলোর তথ্য সামনে এসেছে, সেখানেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে মেসির ছোট ছেলে। ২০২৬ সালের ড্রিমস কাপে ইন্টার মায়ামির অনূর্ধ্ব-৮ দলকে শিরোপা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে চিরো।
ফাইনালে জোড়া গোল করার পাশাপাশি পুরো টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয় সে।
একই সময়ে তার দুর্দান্ত একটি ফ্রি-কিক গোলও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
অন্যদিকে থিয়াগোও প্রতিভাবান। তিনিও ইন্টার মায়ামির একাডেমিতে নিয়মিত খেলছেন এবং নিজের সামর্থ্যের পরিচয় দিচ্ছেন।
তবে ব্যাক্তিগত স্কিলের দিক থেকে নজর কেড়েছেন চিরো মেসি। তার খেলার ধরণ, ড্রিবলিং বা ঝুকি নেওয়ার মানসিকতা মনে করিয়ে দেয় তরুণ মেসিকেই।
অনেক ভক্তের মতে, চিরোর খেলার মধ্যে বাবার ছায়া সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। বাঁ পায়ে বলের নিয়ন্ত্রণ, ছোট ছোট টাচে ডিফেন্ডারকে পাশ কাটানো, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং গোলমুখে নির্ভুল ফিনিশিং এসব বৈশিষ্ট্য তাকে আলাদা করে তুলছে।
যদিও বাবার পথ পারি দেওয়া অনেক দূর বাকি, তবে চিরোকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছে ভক্তরা।
কিংবদন্তির ছেলে হিসেবে ফুটবলার হওয়া সবসময়ই চাপের। তাই চিরোকে নিয়ে যতই উচ্ছ্বাস থাকুক, তার সামনে এখনও অনেক পথ বাকি।
তবুও একটি বিষয় নিশ্চিত,মেসি পরিবারের সবচেয়ে ছোট সদস্য ইতোমধ্যেই নিজের প্রতিভার ঝলক দেখাতে শুরু করেছে। আগামী দিনেও তা অব্যাহত থাকুক, আর্জেন্টিনা ও মেসি ভক্তদের চাওয়া থাকবে এটাই।




