ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্বে গত এক দশকে ফুটবল প্রশাসনে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার কাফু।
বর্তমান ও সাবেক ফুটবলারদের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগের জন্য ফিফা ও ইনফান্তিনোর প্রশংসা করেছেন বিশ্বকাপজয়ী এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় কাফু বলেন, আগে ফুটবলের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে খেলোয়াড়দের মতামত খুব একটা গুরুত্ব পেত না। তবে গত ১০ বছরে সেই চিত্র বদলেছে।
ফিফার বিভিন্ন কমিটি, প্রকল্প ও কর্মপরিকল্পনায় বর্তমান ও সাবেক খেলোয়াড়দের যুক্ত করার ফলে মাঠের অভিজ্ঞতা এখন নীতিনির্ধারণেও কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
কাফুর ভাষায়, ফুটবল প্রশাসনে খেলোয়াড়দের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইনফান্তিনোর সময়ে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা আগে দেখা যায়নি।
তাঁর মতে, খেলোয়াড় ও সাবেক খেলোয়াড়দের শুধু আনুষ্ঠানিক দায়িত্বে রাখা হচ্ছে না, বরং তাদের মতামতকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অংশ করা হচ্ছে।
ব্রাজিলের হয়ে তিনটি বিশ্বকাপ খেলা কাফু আরও বলেন, বিভিন্ন উদ্যোগ ও পরিকল্পনা তৈরির সময় তাদের ভাবনা, অভিজ্ঞতা ও পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ফলে মাঠে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা অর্জন করা সাবেক খেলোয়াড়েরা এখন ফুটবলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ পাচ্ছেন।
ফিফা সভাপতির প্রশংসা করে কাফু বলেন, ফুটবলের উন্নয়নে খেলোয়াড়দের কণ্ঠস্বরকে সামনে আনার এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ মাঠের ভেতরের অভিজ্ঞতা থাকা ব্যক্তিরাই অনেক সময় খেলাটির বাস্তব সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো সবচেয়ে ভালোভাবে তুলে ধরতে পারেন।
শুধু প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, ফুটবলের সামাজিক প্রভাব নিয়েও কথা বলেছেন কাফু। তাঁর বিশ্বাস, ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়; এটি মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
ফিফা ও ইনফান্তিনোর উদ্যোগের প্রশংসা করে কাফুর এমন বক্তব্য আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
বিশেষ করে ব্রাজিলের মতো ফুটবলপ্রধান দেশের কিংবদন্তি একজন খেলোয়াড় যখন বর্তমান ফিফা নেতৃত্বের পাশে দাঁড়ান, তখন তা ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন হিসেবেই দেখা হচ্ছে, কেননা সামনেই ফিফা সভাপতির নতুন নির্বাচন।




