নারী এশিয়া কাপের পর্দা উঠতে আর বেশি সময় বাকি নেই। আগামী শুক্রবার শুরু হতে যাচ্ছে আট দলের এই মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই।
টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে অংশগ্রহণকারী দলগুলো নিজেদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। তবে প্রস্তুতির ধরনে চমক দেখিয়েছে পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দল।
শক্তি ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাত্রা বাড়াতে ছেলেদের দলের বিপক্ষে পুরো ম্যাচ খেলেছেন ফাতিমা সানার নেতৃত্বাধীন ক্রিকেটাররা।
লাহোরের জাতীয় ক্রিকেট একাডেমিতে অনুষ্ঠিত প্রাক-টুর্নামেন্ট ক্যাম্পে আবদুল কাদির ক্রিকেট একাডেমির ছেলেদের বিপক্ষে মাঠে নামে পাকিস্তান নারী দল।
সেখানে তরুণদের পাশাপাশি অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররাও ছিলেন। ফলে নারী ক্রিকেটারদের জন্য ম্যাচটি ছিল স্বাভাবিক অনুশীলনের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন একটি পরীক্ষা।
শুধু ব্যাটিং-বোলিং অনুশীলন নয়, ম্যাচটিকে দেওয়া হয়েছিল পুরোপুরি প্রতিযোগিতামূলক রূপ। খেলা হয়েছে ২০ ওভারের পূর্ণাঙ্গ ম্যাচ। পুরুষ ক্রিকেটারদের তুলনামূলক বেশি গতি ও শক্তির বিপক্ষে খেলে নিজেদের দক্ষতা যাচাইয়ের পাশাপাশি চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতাও অর্জন করেছেন পাকিস্তানের মেয়েরা।
অধিনায়ক ফাতিমা সানার মতে, এ ধরনের ম্যাচ এশিয়া কাপের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাঁর বিশ্বাস, ছেলেদের বিপক্ষে কঠিন পরিস্থিতিতে খেলার অভিজ্ঞতা মূল টুর্নামেন্টে চাপের মুহূর্ত সামলাতে দলকে সাহায্য করবে।
সাম্প্রতিক সময়ে টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের পারফরম্যান্স অবশ্য খুব একটা সন্তোষজনক নয়। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচ খেলে মাত্র একটিতে জয় পেয়েছিল তারা।
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে পাওয়া সেই জয় ছাড়া বাকি ম্যাচগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে দলটি।
বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকা ও বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ভুল করেছে পাকিস্তান।
ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষেও দুর্বল ফিল্ডিং এবং চাপ সামলাতে না পারার সমস্যা চোখে পড়েছে।
এশিয়া কাপে পাকিস্তানের ইতিহাসও খুব উজ্জ্বল নয়। ২০১২ ও ২০১৬ সালে দুবার ফাইনালে উঠলেও প্রতিবারই ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ হয় তারা। ২০২৪ সালের সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপে অবশ্য সেমিফাইনালেই থামতে হয়েছিল পাকিস্তানকে।
এবার নতুন প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে নামছে সানা বাহিনী। ১ সেপ্টেম্বর দুবাইয়ে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের এশিয়া কাপ অভিযান।
এরপর ৫ সেপ্টেম্বর ভারতের এবং ৭ সেপ্টেম্বর হংকংয়ের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলবে পাকিস্তান। কঠিন লড়াইয়ের আগে ছেলেদের বিপক্ষে এই বিশেষ প্রস্তুতি কতটা কাজে আসে, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।




