দেশের হয়ে জিতেছেন বয়সভিত্তিক পর্যায়ে এশিয়া কাপ, সেটাও ভারতকে হারিয়ে।
সে আসরে অধিনায়ক তামিম ৫ ম্যাচে করেন ২৪০ রান, ব্যাট করেন ৮০ এভারেজে। এরপর অনুর্দ্ধ ১৯ পর্যায়ে নিয়মিতই জ্বলে উঠে তামিমের ব্যাট। অনুর্দ্ধ ১৯ পর্যায়ে ৩৬ ম্যাচ খেলে রান করেছেন ৪১ এভারেজে, এমনকি তুলে নিয়েছেন ২৬ উইকেটও।
তবে অনুর্দ্ধ ১৯ এর পর আলোচনা ছিল, তামিম কি হারিয়েই গেলেন নাকি? বড় দুই তামিম ভাইয়ের পথে না হেটে তামিম গেলেন নাকি অন্য পথে।
তবে সেইসব প্রশ্নের উত্তর ব্যাট হাতেই দিলেন একদম ছোট তামিম। বাংলাদেশ ক্রিকেটাঙ্গনের ক্লাসিক নামের সর্বশেষ সংযোজন নিজেকে প্রমাণ করলেন ব্যাট হাতেই।
গেম ডেভেলপমেন্টর আসরে অনুর্দ্ধ ১৯ এর বিপক্ষে আগের ম্যাচে শুরু পেলেও বড় রান করতে পারেননি তামিম।
তার ফল দিতে হয়েছে দলকে, শেষ পর্যন্ত হেরেই যায় অনুর্দ্ধ ২৩ দল। তবে পরের দেখায় একই ভুল করেননি আজিজুল হাকিম। এবার দলকে জিতিয়েই ছাড়েন মাঠ, সাথে খেলেন দুর্দান্ত এক ইনিংস।
ওপেনিংএ নেমে তামিম পুরোটা সময় ব্যাট করেছেন। প্রতিপক্ষের বোলারদের শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিং করে শাসন করেন তামিম, বল ও রান করেন পাল্লা দিয়ে।
এমনকি অর্ধশতকও হাকান মাত্র ৪৭ বলে। জারিফকে হাকানো অর্ধশতকে সেই ছক্কাটা যে কাউকেই মুগ্ধ করবে বেশ। তামিম যেভাবে খেলেন, যেভাবে শট হাকান তা সবাইকেই মুগ্ধ করবে। বিশেষ করে তার ড্রাইভ, পুল বা পিকাপ শটে ছড়িয়ে থাকবে আলাদা মুগ্ধতা।
যে মুগ্ধতা পাওয়া যায় তামিম ইকবাল কিংবা তানজিদ তামিমের ব্যাটে, আজিজুল তামিমের গল্পটাও একই।
ব্যাট হাতে এদের ইনিংসগুলো কাব্যিক সুন্দর, যে কারো দৃষ্টি কারার মতই। একইসাথে নিয়মিত রান করা ও শটের মজুদ তামিমকে করেছে আরো শক্তিশালী। আর এবার সেটার ভুক্তভোগী হলো অনুর্দ্ধ ১৯ দল। তামিমের ব্যাটের কাছে এবার পাত্তাই মিললোনা তাদের।
অনুর্দ্ধ ১৯ এর পর ৩৭ এভারেজে লিস্ট এতে ব্যাট করেছেন তামিম, অপরদিকে ফার্স্ট ক্লাসে ব্যাট করেছেন ৬১ এভারেজে। স্ট্রাইক রেট নিয়ে অনেকে তুলেছিলেন প্রশ্ন, তবে সেটারও জবাব দিলেন এদিন। তামিম চাইলে দ্রুতও বড় রান করতে পারেন, সেটাকেও প্রমাণ করলেন আরো একবার। আগামী দিনে তামিম ইকবাল ও তানজিদ তামিমের চেয়েও বড় ও সমৃদ্ধ হোক আজিজুল তামিমের ক্যারিয়ার, এটাই চাওয়া থাকবে দেশের কোটি ক্রিকেট ভক্তের।




