গত মৌসুমে দুর্দান্ত পারফর্মেঞ্চের পর আছেন ব্যালন ডি অর পাওয়ার আলোচনায়। আবার এই মৌসুমের শুরুটাও বেশ দারুণই করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।
লা লীগায় নয়া মৌসুমে ৩ ম্যাচে ৪ গোল করেছেন এমবাপ্পে, দলের সাথে উড়ছেন নিজেও। এই মুহুর্তে ফুরফুরেই থাকার কথা এই ফ্রেঞ্চ স্ট্রাইকারের। তবে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য এই সময়েও তাকে করতে পারে শঙ্কিত।
কেননা সময়ের অন্যতম সেরা এই তারকাকেই করা হয়েছিল কিডন্যাপের পরিকল্পনা। মার্কা, ইয়াহু স্পোর্টস, ওয়াইউন সহ বড় বড় গণমাধ্যম তোলপাড় যে সংবাদে।
যে কিডন্যাপ বা অপহরণের পরিকল্পনাও আসে জেলের ভিতর থেকে। সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে এমন খবর, যা আলোড়ন ফেলে পুরো বিশ্বে।
এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ফ্রান্সের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম লে প্যারিসিয়েন।
সংবাদমাধ্যমটির তথ্য অনুযায়ী, রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে ছিলেন ফ্রান্সের একটি বিপজ্জনক অপরাধী চক্রের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায়। ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ যার প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে জানা যায়। লেস্টার জেড ছদ্মনামেই তিনি পরিচালনা করেন অপরাধ চক্র, যার আসল নাম ক্লেম লি।
১৮ বছর বয়সী এই তরুণ বর্তমানে সশস্ত্র ডাকাতি ও দালালি সংক্রান্ত অপরাধে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তবে কারাগারে থাকা অবস্থাতেই তিনি একটি ভয়ংকর পরিকল্পনা পরিচালনা করছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তকারীদের বরাতে জানা গেছে, ওই তরুণ মোট ২৬ জনকে অপহরণের পরিকল্পনা করেছিলেন। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ছিলেন ফুটবলার, র্যাপার এবং বিপুল সম্পদের মালিক ব্যবসায়ীরা।
বর্তমানে ভিলপাঁত কারাগারে বন্দী থাকা ওই তরুণ কারাগারের ভেতর থেকেই স্ন্যাপচ্যাটের মাধ্যমে নির্দেশনা দিতেন।
তিনি সেখানে ‘লেস্টার জেড’ ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা দুটি মোবাইল ফোন বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা গায়ক, ফুটবলার ও ধনী ব্যবসায়ীদের ঠিকানা খুঁজে পায় পুলিশ। আর সেখানেই ছিল ফ্রেঞ্চ ফুটবল তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের নাম।
যদিও এই ঘটনার সুত্রপাত বেশ আগেই। গত এপ্রিল মাসে ঘড়ির দোকানে হামলার ঘটনার তদন্ত করতে গিয়েই এমন সব তথ্য আসে পুলিশের সামনে।
আর সেখানেই এমবাপ্পে সহ নানা র্যাপার ও ধনী ব্যাক্তির অপহরণের পরিকল্পনার বিষয়টি আসে সামনে। আর সেটাই আলোড়ন তুলেছে বিশ্বজুড়ে।
এমন কিছুর পর এমবাপ্পের নিরাপত্তা বাড়ানো হবেনা, সেটা প্রশ্ন উঠেছে ফুটবল অঙ্গনে। আবার এই চক্রে কারা কারা আছে এ নিয়েও এখনও পাওয়া যায়নি চুড়ান্ত ফল।
সব মিলিয়ে তাই এই বিষয়টি নিয়ে বেশ থমথমে অবস্থানে এমবাপ্পে ও ফ্রাঞ্চ ভক্তরা। আগামী দিনে এই চক্রের সর্বোচ্চ শাস্তি ও এমবাপ্পের সঠিক নিরাপত্তাই চাওয়া থাকবে তাদের, যা ফুটবলের জন্যই হবে মঙ্গলজনক।




