কোচ হিসেবে দায়িত্ব শুরু করেছিলেন ফ্ল্যামেঙ্গোর দায়িত্ব নিয়ে। সেখানে করেছিলেন একের পর এক ইতিহাস। এমনকি ক্লাবটির হয়ে জয় পেয়েছিলেন ৬০ ভাগ ম্যাচ। মোট জিতেছিলেন ৬ শিরোপা, ঘরোয়া আসর থেকে মহাদেশীয় আসর, কোন জায়গায় ছিলনা কমতি।
তবে অনেকেই মন্তব্য করেছিলেন, ঘরের মাঠে ভালো দল নিয়ে করা যায় এইসব অর্জন। এবার তাদেরকেই যেন জবাব দিলেন ফিলিপে লুইস। ঘরের দল ফ্ল্যামেঙ্গো ছেড়ে সরাসরি করলেন মহাদেশ বদল।।এমন এ ক্লাব এলেন, যে ক্লাবে দূরে থাক সেই দেশের কোন ক্লাবেই খেলেননি কোনদিন। দায়িত্ব নিলেন মিড টেবিলের এক ক্লাবের, যারা গত মৌসুম শেষ করেছে সাত নাম্বারে থাকে। এবার তাদের হয়েই দুর্দান্ত শুরু করলেন এই ব্রাজিলিয়ান কোচ।
এই মৌসুমে পগবা, আখিলুস, কায়ো হেনরিকের মত খেলোয়াড়রা করেছে মোনাকো ত্যাগ। তবে তাতেও কমেনি ফিলিপে লুইসের দাপট। ক্লাবের দায়িত্ব নেবার পর দল খেলেছে ৫ ম্যাচ। আর সেখানে সবগুলো ম্যাচেই জয় পেয়েছে মোনাকো।
শুরুর ম্যাচে কনফারেন্স লীগের বাছাইয়ের লড়াইয়ে পোলান্ডের গরনিক যাব্রেজকে তাদের মাঠে ৩-২ গোলে হারায় লুইসের দল। এরপর লা হার্ভেকে ১-০ গোলে হারিয়ে শুরু করে লীগে জয়ের ধারা। এক ম্যাচ পর ঘরের মাঠে গরনিক জাব্রেজ আসে ফ্রান্সে খেলতে, এবার সেখানে প্রতিপক্ষকে ৪ গোল দেয় লুইসের দল।
গত ম্যাচে তারা নামে গত কয়েক মৌসুমে দাপট দেখানো মার্শেই এর বিপক্ষে। সেখানেও ক্লিনশিট রেখে পায় জয়। তবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা আসে সর্বশেষ ম্যাচে, যেখানে প্রতিপক্ষ ছিল লুইস এনরিকের পিএসজি। বর্তমান চ্যাম্পিয়নস লীগ জয়ী দল পিএসজি, এমনকি গত দুই আসরের টানা চ্যাম্পিয়ন তারা। দলে আছে ডেম্বেলে, ডুয়ো, কাভারাৎখেলিয়া, পাচো, মার্কুইনহস সহ বড় বড় তারকারা।
সেই পিএসজিকেই এবার হারিয়ে দেয় মোনাকো। এমনকি সেই জয়টা আসে পিএসজির ঘরের মাঠ পার্ক দে প্রিন্সেসে। শুরুতে পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি মোনাকো। নাজিনহো ও ইদাম্বুর দুই গোলে শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে মোনাকো। যাতে টানা ৫ ম্যাচে জয় নিয়ে লীগ টেবিলের সবার উপরে চলে আসে তারা।
পাচ ম্যাচে ১২ গোল দেয় মোনাকো, হজম করে মাত্র ৪ গোল, রাখে দুই ক্লিনশিট। মার্শেই, জাবরেজ, এল হার্ভের সাথে বল ধরে রেখে খেলেছে মোনাকো। আবার পিএসজির সাথে তাদের পায়ে বল রেখেই খেলেছে দলটি। কোচ হিসেবে লুইসের বুদ্ধির প্রশংসা করতে হয় এখানেও।
সব মিলিয়ে নতুন দিনের সুচনা দারুণ করলেন লুইস। এবার নিজেকে ধরে রেখে আগামী দিনে ব্রাজিলের স্বপ্নপুরণের পালা থাকবে তরুণ এই কোচের। আর সেটারই প্রত্যাশা করবে সেলেসাও ভক্তরা।




