বাংলাদেশ ক্রিকেটে পেস বোলিং নিয়ে নতুন করে ভাবছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। সামনে বড় লক্ষ্য বিশ্বকাপ।
আর সেই বিশ্বকাপের আয়োজক দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা থাকায় সেখানকার কন্ডিশনে পেসারদের প্রস্তুত করার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিসিবি। সেই পরিকল্পনায় আবারও আলোচনায় এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক তারকা পেসার অ্যালান ডোনাল্ডের নাম।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে ডোনাল্ড অপরিচিত কেউ নন। ২০২২ সালে বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ হিসেবে কাজ করেছিলেন তিনি।
তার অধীনে তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমানসহ দলের একাধিক পেসার কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশের পেস ইউনিটের সঙ্গে তার বোঝাপড়া তৈরি হয়েছিল। পেসারদের টেকনিক, মানসিক প্রস্তুতি এবং ম্যাচ পরিস্থিতিতে বোলিংয়ের ধরন নিয়ে তার কাজ বেশ আলোচিত হয়েছিল।
বর্তমান বাস্তবতায় আবারও সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চাইছে বিসিবি।
বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে কীভাবে নতুন বলে সুইং আদায় করতে হয়, কখন শর্ট বল ব্যবহার করতে হবে কিংবা লম্বা স্পেলে কীভাবে গতি ও নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে হবে, এসব বিষয়ে ডোনাল্ডের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য কাজে আসতে পারে।
বাংলাদেশের পেস আক্রমণও এখন আগের তুলনায় বেশ সমৃদ্ধ।
মুস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদের সঙ্গে আছেন হাসান মাহমুদ, শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা। পাশাপাশি তানজিম হাসান সাকিব এবং এবাদত হোসেনও দলের পেস বোলিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে অভিজ্ঞ ও তরুণ পেসারদের নিয়ে তৈরি এই ইউনিটকে আরও কার্যকর করে তোলাই এখন অন্যতম লক্ষ্য।
সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতেও বাংলাদেশের পেসারদের পারফরম্যান্সে সেই সম্ভাবনার ছাপ দেখা গেছে। ডারউইনে নাহিদ রানাকে না পাওয়া গেলেও তাসকিন ও হাসান মাহমুদ নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। পরের টেস্টে শরিফুল ইসলামের বোলিংও ছিল নজরকাড়া। অর্থাৎ পেস আক্রমণে বাংলাদেশের হাতে এখন একাধিক কার্যকর অস্ত্র রয়েছে।
এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকার মাঠে খেলার অভিজ্ঞতা। ২০২২ সালে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ওয়ানডে সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকাকে তাদের মাটিতে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই সাফল্যের অন্যতম বড় শিক্ষা ছিল স্থানীয় কন্ডিশনকে কাজে লাগানো।
এবার লক্ষ্য আরও বড়। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বাংলাদেশের পেসারদের প্রস্তুত করতে চায় বিসিবি। আর দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশন সম্পর্কে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থাকা ডোনাল্ড সেই পরিকল্পনায় বাড়তি মাত্রা যোগ করতে পারেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, ডোনাল্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের কয়েকজন পেসারের যোগাযোগ এখনও রয়েছে। তার অধীনে কাজ করা ক্রিকেটাররা বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে পরামর্শও নেন। ফলে নতুন করে দায়িত্ব পেলে ডোনাল্ডের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময়ও তুলনামূলক কম লাগতে পারে।
এখন দেখার বিষয়, বিসিবি শেষ পর্যন্ত সেই পরিচিত ‘সাদা বিদ্যুৎ’ অ্যালান ডোনাল্ডকেই আবার বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের দায়িত্ব দেয় কি না। সিদ্ধান্ত হলে বিশ্বকাপের আগে মুস্তাফিজ, তাসকিন, হাসান, শরিফুল ও নাহিদদের নিয়ে তার কাজের দিকে থাকবে সবার নজর।




