মাঠের ফুটবলে সান্তোসের বড় তারকা। তবে মাঠের বাইরেও যেন নেইমার জুনিয়ার সান্তোসের প্রাণভোমরা। যে ক্লাব থেকে উঠে এসে বিশ্ব ফুটবলের তারকা হয়েছেন, সেই সান্তোসকে কঠিন সময় থেকে বের করে আনতে এবার মাঠের বাইরেও বড় ভূমিকা রাখছেন নেইমার।
ক্লাব যখন ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞায় আটকে, নতুন খেলোয়াড় নিবন্ধন করার সুযোগ নেই, তখন নেইমারই হয়ে উঠেছেন সান্তোসের অন্যতম বড় ভরসা।
শুধু নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে নয়, পরিচিতি ও প্রভাব কাজে লাগিয়েও সান্তোসকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।
একটা সময় বার্সায় আর্থারের সাথে খেলেছেন নেইমার। বার্সেলোনা, লিভারপুলে ও জুভেন্তাসের মত ক্লাবে খেলা এই মিডফিল্ডারকে সান্তোসে আনতে বড় ভূমিকা ছিল নেইমার জুনিয়ারের। তবে শুধু আর্থুরকে নয়, দলে এনেছেন ব্রাজিলিয়ান জাদুর কোটা খ্যাত ফিলিপে কৌতিনহোকেও।
পুরোনো ব্রাজিল সতীর্থ ফিলিপে কৌতিনহোকে সান্তোসে আসার জন্য রাজি করানোর ক্ষেত্রে নেইমারের অনুরোধ গুরুত্বপূর্ণ ছিল জানিয়েছেন স্বয়ং এই মিডফিল্ডার।
তবে নেইমারের সাহায্যের গল্পটা শুধু খেলোয়াড় আনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সান্তোসের ট্রান্সফার ব্যানের পেছনে ছিল মোনাকোর কাছে প্রায় ২ মিলিয়ন ইউরোর বা ব্রাজিলের টাকা ১২ মিলিয়ন ব্রাজিলিয়ান মুদ্রার দেনা। এই অর্থ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৯ কোটি টাকা। সেই দেনা পরিশোধের পরই ফিফার ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা উঠে যায় এবং নতুন খেলোয়াড় নিবন্ধনের পথ খুলে যায়।
আর সেই টাকাটাই পরিশোধ করেন নেইমার নিজ উদ্যেগে, নিজের অর্থায়ন থেকেই।
ব্রাজিলিয়ান রিপোর্ট অনুযায়ী, নেইমারের পরিবারের প্রতিষ্ঠান এনআর স্পোর্টস সান্তোসকে এই অর্থ পরিশোধে সহায়তা করে। একই সময়ে ক্লাবটির সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনাও হয়েছে। অর্থাৎ নেইমারের পরিবার ও তাদের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সান্তোস এই বড় বাধা কাটিয়ে উঠেছে।
এরপরই বদলে যেতে শুরু করে সান্তোসের ট্রান্সফার বাজার।ব্যান ওঠার পর প্রথম বড় সংযোজন আর্থার মেলো। ৩০ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার সর্বশেষ ছিলেন জুভেন্টাসের খেলোয়াড়। তার আগে ধারে গ্রেমিওতে খেলেছেন। জুভেন্টাসের সঙ্গে চুক্তি শেষ করে নেইমারের টানে ফ্রি এজেন্ট হিসেবেই সান্তোসে যোগ দেন ব্রাজিলের হয়ে ২২ ম্যাচ খেলা আর্থুর।
এরপর আসে অভিজ্ঞ রাইট-ব্যাক রোদিনেই। গ্রিসের অলিম্পিয়াকোস ছেড়ে সান্তোসে ফেরেন তিনি। লোনে আনা হয় লিমার মত অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে, যিনি দীর্ঘদিন ধরে অংশ ব্রাজিলিয়ান লীগের।
এমনকি ব্রাজিলের হয়ে ২৪ ম্যাচ খেলা ও সাবেক বেনফিকা তারকা এভারটনও নেইমারের টানে আসেন সান্তোস দলে। এর আগে রনি, বার্বোসার মত খেলোয়াড়রা নেইমির টানেই যোগ দেন সান্তোসে।
যে সান্তোস কিছুদিন আগেও ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞায় আটকে ছিল, সেই দলই এখন নেইমারকে ঘিরে একের পর এক অভিজ্ঞ তারকাকে জড়ো করছে।
নেইমার মাঠে থাকুন বা চোটের কারণে বাইরে থাকুন,সান্তোসের এই নতুন যাত্রায় তার প্রভাব স্পষ্ট। নেইমার সান্তোসের হয়ে যা করেছেন, তা একজন খেলোয়াড় স্বত্তার হিসেবের বাইরে করেছেন। আগামী দিনে নেইমারকে সান্তোস ও তার ভক্তরা যে মনে রাখবে দীর্ঘদিন, তাতে নেই সন্দেহ




