একসময় বার্সেলোনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বড় অংশজুড়েই ছিলেন নেইমার জুনিয়র। লিওনেল মেসির উত্তরসূরি হিসেবে ব্রাজিলিয়ান তারকাকে ঘিরে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও ছিল কাতালান ক্লাবটির।
বয়সের হিসেবে মেসির চেয়ে বেশি সময় নেইমারকে পাওয়া যাবে, এমন ভাবনাও ছিল বার্সা কর্তাদের। কিন্তু বড় অঙ্কের অর্থের হাতছানিতে ২০১৭ সালে প্যারিস সেন্ট জার্মেইনে পাড়ি জমান নেইমার।
এরপরের গল্পটা অবশ্য খুব একটা সুখকর নয়। পিএসজি থেকে আল হিলাল, সেখান থেকে শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরেছেন তিনি।
চোট ও নানা কারণে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি। বড় মঞ্চে ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকাতেও যোগ হয়নি প্রত্যাশিত সাফল্য।
নেইমারের সেই গল্পের সঙ্গে যেন উল্টো পথে হাঁটছেন রাফিনহা। সৌদি আরবের ক্লাবগুলোর বড় অঙ্কের প্রস্তাব থাকলেও বার্সেলোনাতেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার। আর সেই সিদ্ধান্তের প্রতিদান এখন মাঠেই দিচ্ছেন তিনি।
গত দুই মৌসুমে কখনো উইঙ্গার, কখনো নম্বর টেন হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করা রাফিনহা এবার যেন নতুন ভূমিকায় আরও ভয়ংকর।
হান্সি ফ্লিকের অধীনে নম্বর নাইন হিসেবে একের পর এক গোল করে যাচ্ছেন এই ব্রাজিলিয়ান।
আন্তর্জাতিক বিরতিতে যাওয়ার আগে সেভিয়ার মাঠে বার্সেলোনার ৩-১ গোলের জয়ে রাফিনহার পা থেকেই এসেছে তিনটি গোল।
চার দিনের ব্যবধানে টানা দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক করে দলকে এনে দিয়েছেন আরেকটি বড় জয়।
ম্যাচের ১৯ মিনিটে পিছিয়ে পড়েছিল বার্সা। তবে মাত্র তিন মিনিট পরই আন্দ্রেস ক্রিস্টেনসনের পাস থেকে নিচু শটে সমতা ফেরান রাফিনহা। দ্বিতীয়ার্ধে ৫২ মিনিটে লামিন ইয়ামালের ক্রস থেকে হেডে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। এরপর ৬৯ মিনিটে ডান পা, বাঁ পা ও মাথা দিয়ে গোল করে পূর্ণ করেন ‘পারফেক্ট হ্যাটট্রিক’।
রেসিং সান্তানদের বিপক্ষে আগের ম্যাচেও তিন গোল করেছিলেন তিনি। ফলে মাত্র চার দিনের ব্যবধানে দুই ম্যাচে ছয় গোল রাফিনহার।
চলতি মৌসুমে আট ম্যাচে তার গোল এখন ১৪টি। লা লিগায় সাত ম্যাচেই করেছেন ১২ গোল। বার্সেলোনার হয়ে মৌসুমের শুরুতেই এমন গোলের ধারায় ৮৩ বছর আগের মারিয়ানো মার্টিনের পর বিরল কীর্তিও গড়েছেন তিনি।
নেইমারের পথ ছিল অর্থের বড় প্রস্তাবের দিকে, রাফিনহার পথ যেন থেকে যাওয়ার।
আর সেই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে জোরালো উত্তর দিচ্ছেন তিনি মাঠেই। গোল এখন যেন তার কাছে হেসে খেলেই আসে!




