বাংলাদেশের ক্রিকেটে একসময় নিয়মিত আলোচনায় থাকা নাম আকবর আলী। ২০২০ সালে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের অধিনায়ক ছিলেন তিনি।
ঘরোয়া ক্রিকেটেও দীর্ঘদিন ধরে খেলছেন। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটের বিভিন্ন দলের বিদেশ সফরে তার অনুপস্থিতি নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ডেইলি স্টার বাংলার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এইচপি, ইমার্জিং ও ‘এ’ দলের হয়ে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করেছে বাংলাদেশের প্রায় ৬৩ জন ক্রিকেটার।
এমনকি অনেক নতুন ক্রিকেটারও এসব দলে সুযোগ পেয়েছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী স্বল্প সময়ের নোটিশে এক দেশ থেকে আরেক দেশেও পাঠানো হয়েছে ক্রিকেটারদের।

কিন্তু ২৪ বছর বয়সী উইকেটকিপার ব্যাটার আকবর আলী কোনো সফরেই জায়গা পাননি। এই সময়ে তিনি ইংল্যান্ডে ক্লাব ক্রিকেট খেলেছেন।
শুধু সাম্প্রতিক ফর্ম দিয়ে আকবরের বাদ পড়ার ব্যাখ্যা দেওয়া গেলেও বিষয়টি পুরোপুরি সহজ নয়। গত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ৯ ইনিংসে ২১৭ রান করেছেন তিনি।
গড় ২৪.১১ হলেও স্ট্রাইক রেট ছিল ১১৯.২৩। প্রাইম ব্যাংকের হয়ে দলকে লিগে তৃতীয় স্থানে রাখতে অধিনায়ক হিসেবেও ভূমিকা ছিল তার।
এর আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে উত্তরাঞ্চলের হয়ে ১২১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছেন আকবর।
রংপুর বিভাগকেও নেতৃত্ব দিয়ে জাতীয় ক্রিকেট লিগের চার দিনের ও টি টোয়েন্টি দুই সংস্করণেই শিরোপা জিতিয়েছেন।
ফলে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স খুব উজ্জ্বল না হলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের রেকর্ডকে একেবারে উপেক্ষা করা যায় না।
ডেইলি স্টার বাংলার প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, আকবরের কোয়াব সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি। ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য তিনি।
ক্রিকেটারদের বিভিন্ন দাবি ও অধিকার নিয়ে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় আকবরের সঙ্গে প্রভাবশালী কয়েকজনের মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে কয়েকজন ক্রিকেটারের বক্তব্যের বরাতে জানানো হয়েছে।
এমন দাবিও রয়েছে, কয়েকটি সফরের প্রাথমিক তালিকায় আকবরের নাম থাকলেও পরে সেটি বাদ দেওয়া হয়। তবে এই অভিযোগের কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে আকবর অবশ্য কোনো ষড়যন্ত্রের কথা স্বীকার করেননি। বরং বাদ পড়াকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখার কথা জানিয়েছেন। তবে একের পর এক সফরে সুযোগ না পাওয়ায় তার হতাশাও স্পষ্ট হয়েছে।
ফলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, আকবরের অনুপস্থিতির পেছনে আসল কারণটা কী? শুধুই পারফরম্যান্স, নাকি কোয়াব নিয়ে মতবিরোধও কোনোভাবে প্রভাব ফেলেছে?
ডেইলি স্টার বাংলার প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এনেছে। তবে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলার সুযোগ নেই।




