বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামো ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি নতুন একটি ছয় দলের টুর্নামেন্ট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি।
আগামী ডিসেম্বরেই টি টোয়েন্টি ফরম্যাটের এই প্রতিযোগিতা মাঠে গড়ানোর কথা রয়েছে।
বোর্ডের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুরুতে তিন বছরের জন্য ছয়টি দল ছয়টি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এই দলগুলো শুধু টি টোয়েন্টিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। পরবর্তী সময়ে ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যান্য ফরম্যাটেও অংশ নেবে তারা।
ফলে দেশের ক্রিকেটে কর্পোরেট বিনিয়োগের পাশাপাশি ক্রিকেটারদের জন্যও তৈরি হবে নতুন সুযোগ।
প্রতি বছর বিপিএলের আগে এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ পাবেন ঘরোয়া ক্রিকেটাররা। অর্থাৎ জাতীয় দলের বাইরে থাকা কিংবা বিপিএলের দলগুলোর নজরের বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের জন্য এটি হতে পারে নিজেদের তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ।
এদিকে ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশ নেওয়া ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফিও বাড়িয়েছে বিসিবি।
পুরুষ ক্রিকেটাররা এখন থেকে চার দিনের ম্যাচে দেড় লাখ টাকা, এক দিনের ম্যাচে এক লাখ টাকা এবং টি টোয়েন্টিতে ৮০ হাজার টাকা করে পাবেন। এনসিএলের দ্বিতীয় একাদশের ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ হাজার টাকা।
নারী ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফিও নির্ধারণ করা হয়েছে নতুন কাঠামোয়। তিন দিনের ম্যাচে ৪০ হাজার, এক দিনের ম্যাচে ৩০ হাজার এবং টি টোয়েন্টিতে ২০ হাজার টাকা পাবেন তারা। পাশাপাশি অনূর্ধ্ব ১৯ দলের দৈনিক ভাতা ১০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার অনুমোদন দিয়েছে বোর্ড।
অবকাঠামো উন্নয়নেও রয়েছে একাধিক সিদ্ধান্ত। মিরপুরের ক্রিকেট একাডেমি মাঠে আন্তর্জাতিক মানের আইএএএফ অনুমোদিত তিন লেনের অ্যাথলেটিক রানিং ট্র্যাক নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শের ই বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে ঘরোয়া ক্রিকেটের জন্য দুটি নতুন ড্রেসিংরুম নির্মাণ করা হবে।
এছাড়া মিরপুরের বিকল্প ড্রেসিংরুম, খেলোয়াড়দের প্রবেশপথ ও কমন লবি উন্নয়ন এবং বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামের সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য পরামর্শক নিয়োগের সিদ্ধান্তও হয়েছে।
সব মিলিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামো, ক্রিকেটারদের আর্থিক সুবিধা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে একসঙ্গে বেশ কিছু বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি।




