একসময় ফুটবল বিশ্বে রাজত্ব করেছেন লিওনেল মেসি। বয়স বেড়েছে, ইউরোপ ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে।
অনেকের চোখেই হয়তো ইউরোপের শীর্ষ ফুটবলে না খেলায় মেসির শ্রেষ্ঠত্বের জায়গাটা কিছুটা কমে যাওয়ার কথা।
কিন্তু ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর র্যাংকিং যেন আবারও মনে করিয়ে দিল, মেসিকে মাপার জন্য শুধু বয়স কিংবা ক্লাবের নাম যথেষ্ট নয়।
আমেরিকান লীগে খেলার জন্য গত আসরে ব্যালনের বিবেচনায়ই ছিলেন না মেসি। তবে এবার বিশ্বকাপে পারফর্ম করে এসেছেন চুড়ান্ত তালিকায়।
এমনকি সেরাদের কাতারেও এসেছেন, থেকেছেন সেরা পাচে। যেখানে সারাবছর বড় বড় ক্লাবে মাতিয়ে আসা খেলোয়াড়রা থাকতে পারেননি, সেখানেই সবার চেয়ে আগানো এলএমটেন।
গতবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী পিএসজি তারকা উসমান ডেম্বেলে এবার আছেন সপ্তম স্থানে। অষ্টম স্থানে আছেন ম্যানচেস্টার সিটির আর্লিং হলান্ড, যাকে বলা হয় এই জেনারেশনের সেরা দুইয়ের একজন৷ সময়ের উঠতি তরুণ তারকা মাইকেল অলিসে আছেন তালিকার নয় নাম্বারে। আর ১০গুণ হয়ে ফিরে আসার ইঙ্গিত দিলেও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র তো জায়গা পেয়েছেন ১৭তম স্থানে। অর্থাৎ এই চার তারকার চেয়েও এগিয়ে আছেন মেসি। এমনকি কাভারাৎখেলিয়া, বেলিংহাম, ডুয়ো সহ অনেক বড় বড় তারকাদের পিছনে ফেলেছেন মেসি।
ইউরোপের বাইরে খেলা একজন ফুটবলার কীভাবে এত বড় বড় তারকাদের পেছনে ফেললেন? এর উত্তর খুঁজতে গেলে ফিরে যেতে হবে ২০২৬ বিশ্বকাপে।
আর্জেন্টিনার জার্সিতে আবারও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন মেসি। পুরো টুর্নামেন্টে করেছেন আট গোল, সঙ্গে রয়েছে চারটি অ্যাসিস্ট। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রত্যাবর্তনেও ছিল তাঁর বড় ভূমিকা। ম্যাচের দুটি গোলেই সহায়তা করেন তিনি।
দলকে ফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত শিরোপা জেতা হয়নি আর্জেন্টিনার।
কিন্ত মেসির নিজেকে প্রমাণ করা হয়ে গেছে আরো একবার।
পারফর্মেঞ্চের বিচারে বা ব্যালনের মানদন্ডে আসেনি হয়তবা এমএলএসের আসর। তবে এক বিশ্বকাপেই একক নৈপুণ্যে মেসি যা করেছেন, সেটাই যথেষ্ট ছিল পুরো বছরের পারফর্মেঞ্চের মুল্যয়নের জন্য।
শিরোপা না জিতলেও তাই মেসি জায়গা পেয়েছেন সেরাদের কাতারেই। অন্য সব সুপারস্টাররা সারা বছর টপ লীগে খেলেও যে জায়গা পাননি, এক বিশ্বকাপেই সেটা অর্জন করেছেন এলএমটেন।
সবচেয়ে বড় কথা, মেসির ক্যারিয়ারে এখন আর কিছু প্রমাণ করার বাকি নেই। বিশ্বকাপ জয়ের পরও তিনি থেমে যাননি।
আরেকটি বিশ্বকাপে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন, বয়স কিংবা ক্লাবের অবস্থান দিয়ে তাঁর মান বিচার করা যায় না।
ফুটবলের মঞ্চে মেসি এখনও কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারেন, ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর র্যাংকিং তারই আরেকটি প্রমাণ।




