ব্রাজিল, উরুগুয়ে ও পানামার মতো তিনটি আন্তর্জাতিক দলকে দেশে এনে প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করেছিল ভারত।
উদ্দেশ্য ছিল ফুটবলে নিজেদের সামর্থ্য ও আয়োজনের সক্ষমতা তুলে ধরা। কিন্তু সেই আয়োজনই এখন ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের জন্য বড় আর্থিক দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিন ম্যাচ আয়োজন করতে গিয়ে প্রায় ১১১ কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়েছে ফেডারেশন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ঘাটতি সামাল দিতে এবার হাত দিতে চাইছে নিজেদের স্থায়ী আমানতে।
অক্টোবরে ব্রাজিল, উরুগুয়ে ও পানামার বিপক্ষে তিনটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করে ভারত।
কিন্তু ম্যাচগুলো আয়োজনের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় হওয়ায় এখন আর্থিক সংকটে পড়েছে দেশটির ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ধারণা করা হচ্ছে, তিন ম্যাচ আয়োজন করতে ভারতীয় ফেডারেশনের খরচ হয়েছে ৮০ থেকে ৮৫ কোটি রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১১১ কোটি টাকা।
এই ঘাটতি পূরণে ফেডারেশনের স্থায়ী আমানত বা এফডি ভাঙার প্রস্তাব দিয়েছেন সভাপতি কল্যাণ চৌবে। তবে তাঁর এমন প্রস্তাবে আপত্তি তুলেছেন ফেডারেশনের সদস্যরা। ফলে আপাতত আটকে গেছে সেই উদ্যোগ।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত রোববার অনলাইনে অনুষ্ঠিত বিশেষ সাধারণ সভায় এফডি ভেঙে ম্যাচ আয়োজনের খরচ মেটানোর প্রস্তাব দেন চৌবে।
এমনকি বাইরের উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে পরবর্তী সময়ে সেই টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
তবে ঘাটতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ সভায় প্রকাশ করা হয়নি।
ফেডারেশনের সহসভাপতি এনএ হারিস এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। তাঁর যুক্তি, নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থায়ী আমানত ভাঙার সুযোগ নেই। অন্য সদস্যরাও জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এই অর্থ ব্যবহারের বিপক্ষে অবস্থান নেন।
বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক সভাপতি প্রফুল প্যাটেলও। এর আগে বাইরের উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের কথা বললেও এখন কেন এফডি ভাঙার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে, তা জানতে চান তিনি।
পাশাপাশি পাওনাদারদের কত টাকা বকেয়া রয়েছে এবং কখন তা পরিশোধ করতে হবে, সেই হিসাবও জানতে চান।
শেষ পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে পরবর্তী নির্বাহী কমিটির সভায় প্রস্তাব তোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তবে এই আর্থিক সংকট দীর্ঘায়িত হলে ভারতের ফুটবল উন্নয়ন কার্যক্রম, বিভিন্ন চ্যাম্পিয়নশিপ এমনকি সন্তোষ ট্রফি আয়োজন নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।




