গত সিজনের মত এই সিজনের শুরুটা ভালো হয়নি রিয়াল মাদ্রিদের। কিলিয়ান এমবাপ্পেকে নিয়ে দুর্দান্ত সুচনার আশাই ছিল মাদ্রিদের, তবে এই সিজনের শুরুতে এসে যেন খেই হারায় তারা। প্রথম ৩ ম্যাচের মাঝে ২ ম্যাচই ড্র করে তারা। গত সিজনে দুর্দান্ত খেলা দেখানো রিয়াল মাদ্রিদকেই যেন পাওয়া যাচ্ছিল না। এর সাথে দেখা মিলছিল একের পর এক ইঞ্জুরি। ফলে রিয়াল মাদ্রিদ যেন হয়ে যাচ্ছিল ছন্নছাড়া এক দল।
তবে মাদ্রিদের রক্তেই যেন মিশে আছে কামব্যাক। আর সে কামব্যাকই রিয়াল মাদ্রিদকে এনে দিয়েছে সর্বকালের সর্বসেরাদের কাতারে। এই সিজনে টানা দুই ড্র এর পর আবারো জয়ের দিকে ফিরছে রিয়াল মাদ্রিদ। আর এবার রিয়াল বেটিসের বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদকে জয় এনে দেন দলের সবচেয়ে বড় দুই তারকা ভিনিসিয়াস জুনিয়ার ও কিলিয়ান এমবাপ্পে।

যদিও এদিন শুরুতেই ধাক্কা খায় রিয়াল মাদ্রিদ। রাইট উইঙে নামা ব্রাহিম দিয়াজ ম্যাচের ২৫ মিনিটেই আক্রান্ত হন ইঞ্জুরিতে। ফর্মে থাকা দিয়াজকে হারিয়ে ইঞ্জুরির পাল্লাই যেন ভারী হয় মাদ্রিদের। আর তাতে প্রভাব পড়ে খেলার ধরণেও। প্রথমার্থে ছন্নছাড়া ফুটবল খেলতে থাকে রিয়াল মাদ্রিদ। আর সেখানে কোন গোল আদায় করতে পারেনি লস ব্লাঙ্কোসরা।
তবে দ্বিতীয়ার্থে পরিস্থিতি বদলে যায়। একের পর এক আক্রমণ করে রিয়াল মাদ্রিদ। বিশেষ করে ক্লাবে ফিরেই ভিনিসিয়াসের পারফর্মেঞ্চ ছিল নজরকাড়া। এদিন মোট ৫ টি শট করেন ভিনিসিয়াস। এছাড়া লং বল ও ডুয়েলসেও ছিলেন দারুণ। তাই ভিনিদেএ সামলাতেই পেনাল্টি উপহার প্রতিপক্ষের। ৫৮ মিনিটে আর্দা গুলারের করা শট রিয়াল বেটিসের গোমেজের হাতে লাগলে পেনাল্টি পায় রিয়াল মাদ্রিদ। আদায় করা পেনাল্টি থেকেই গোল করেন এই ব্রাজিলিয়ান। পেনাল্টি শটে এখনও মিস করেননি ভিনি, তার গোল করার হার শতভাগ। এদিন আরো একবার দিলেন তার প্রমাণ।
অবশ্য তাতে রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমণ থেমে থাকেনি। বরং রদ্রিগো, এমবাপ্পেরাও আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দেন। এবার ভিনির কল্যাণে আরো একটি পেনাল্টি পায় রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচের ৭৫ মিনিটে তাকে রিয়াল বেটিসের খেলোয়াড় ফাউল করলে ভারের মাধ্যমে পেনাল্টি পায় রিয়াল মাদ্রিদ। তবে এবার নিজে পেনাল্টি না নিয়ে বল বাড়িয়ে দেন কিলিয়ান এমবাপ্পের উদ্দেশ্যে। ভিনির বাড়ানো উপহার হেলায় হারাননি এমবাপ্পে। আদায় করেন এক গোল। আর সেই গোলে লিড ডাবল করে রিয়াল মাদ্রিদ
পরবর্তীতে আর কোন গোল না হলে ২-০ গোলেই জয় পায় রিয়াল মাদ্রিদ। এ ম্যাচ জয় পেলেও পয়েন্ট টেবিলের দুইয়েই অবস্থান রিয়াল মাদ্রিদের। তবে লীগ লিডার ও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার সাথে তারা কমিয়ে এনেছে ব্যাবধান। এই জয়ে ৫ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার দুইয়ে রিয়াল মাদ্রিদ, ১২ পয়েন্ট নিয়ে সবার সেরা বার্সেলোনা। তবে যেভাবে ঘুরে দাড়িয়েছে মাদ্রিদ, আগামী দিনে এই ধারাই রাখতে চাইবে অব্যাহত।




