বিপিএলের ফাইনাল! ৪৬ ম্যাচের টুর্নামেন্টের পরিনতির দিনে টসে জিতে চিটাগংকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান বরিশাল কাপ্তান তামিম ইকবাল খান!সেই আমন্ত্রনে বেশ ভালোই সাড়া দেন কিংস দুই ওপেনার নাফে ও পারভেজ হোসেন ইমন।দুজনের ব্যাটে ভর করে পাওয়ার প্লেতে উইকেট না হারিয়ে ৫৭ রান তুলে নেয় চিটাগং। ২ ছক্কা ও ৬ বাউন্ডারিতে ৩০ বলে ফিফটি তুলে নেন ইমন।
অপর প্রান্ত থেকে ব্যাট চালাতে থাকেন নাফিও। ৩৭ বলে ফিফটি তুলে নেন এই পাকিস্তানি ব্যাটারও। ২ ছক্কা ও ৬টি বাউন্ডারি হাকান তিনি। দুজনে মিলে ১২১ রানের জুঁটি গড়ে।
১৩তম ওভারে এবাদতের হাতে বল তুলে দেন তামিম ইকবাল। তৃতীয় বলে নাফি বাউন্ডারি মারলেও পরের বলে উইকেটের পিছনে ক্যাচ তুলে দেন নাফি। এতে ১২১ রানে প্রথম উইকেট হারায় চিটাগং। এরপর পারভেজ ইমনকে সঙ্গ দেন গ্রাহাম ক্লার্ক।
সময়ে সঙ্গে সঙ্গে ব্যাট চালানোর গতি বাড়িয়েছে এই দুই ব্যাটার। এদিন ইনিংসের মাঝে পায়ে ব্যথা পান গ্রাহাম। তারপরও বলে বলে রান নিতে থাকেন তিনি। কিন্তু ২০ ওভারে দ্বিতীয় বলে ডাবল নিতে গিয়ে রান আউট হন তিনি। ২৩ বলে ৪৪ রান করেন এই ডান হাতি ব্যাটার।
এক বল পরেই ক্যাচ আউট হন শামীম। শেষ পর্যন্ত ইমনের ৪৯ বলের অপরাজিত ৭৮ রানে ভর করে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৯৪ রানের বড় পুঁজি পায় চিটাগং কিংস।
তবে বিপিএলের ফাইনালে বড় রান করার অভিজ্ঞতা তামিমের আগেই ছিলো,এদিনও হয়নি বিকল্প! ব্যাট হাতে নেমে নিজের স্বভাবের বাহিরে গিয়েই যেন একে একে চার হাকাতে থাকেন মিস্টার খান সাহেব,বল হাওয়ায় নয় বরং নিরাপদেই থাকে বেশিরভাগ শট! প্রতিটি বাউন্ডারী যেন চোখে লেগে থাকার মতো ছিলো,
একে একে ৯ টি চার হাকান তিনি,এক ছয়ে পুর্ন করেন ফিফটি।নিজের ৫৪ রানের ইনিংস শেষ করেন শরিফুলের বলে ছয় হাকাতে গিয়ে,তবে তারমধ্যেই দারুন শুরু এনে দেন দলকে।তবে তামিমের ভিন্ন পথে হাটছিলেন গত ম্যাচে ভাল করা তাওহীদ হৃদয়।একে একে ডট সিঙ্গেলে চাপ বাড়াচ্ছিলেন দলের অন্য ব্যাটারের উপর,এক পর্যায়ে ২৮ বলে ৩২ রানের ধীরগতির ইনিংস খেলে বিদায় নেন নাইম ইসলামের বলে,তবে তার আগেই মাত্র ১ রান করে বিদায় নেন ইনফর্ম ডেভিড মালান।
এরপরই দলের হাল ধরেন মুশফিক ও মায়ার্স,তবে সুইপ খেলতে গিয়ে নাইম ইসলামের বলে ধরা পরেন মুশফিকুর রহিমও।এরপর কিছুটা চাপ বাড়ে দলের।
তবে ঠিকই দলকে বয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন গত বিপিএলের ফাইনালেও দারুন করা কাইল মায়ার্স!
শেষ পর্যন্ত চিটাগংয়ের কাছ থেকে শিরোপা কেড়ে নেওয়ার কারনই হন এই ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান অলরাউন্ডার!
ফলে শেষমেষ টানা ২য় শিরোপা অর্জন করলো ফরচুন বরিশাল।




