কথায় আছে যৌবন খুব দামী জিনিস। যে জিনিস একবার হারালে আর ফিরে পাওয়া যায়না। সেটারই যেন আফসোস করছেন লিওনেল মেসি ও নেইমার জুনিয়ার। এক সময় দুর্দান্ত দাপটে মাঠ মাতিয়েছেন। সেই দাপট এখনও বিদ্যমান আছে এই দুই তারকার। কিন্ত বয়সের কারণে ফিটনেসে এসেছে ঘাটতি। যে কারণে পারফর্মেঞ্চ থাকলেও মাঠে নামা হয়না নিয়মিত। আর সেই কারণেই আগামী দিনে বড় পরিকল্পনার কথা ভেবে মাঝে মাঝে নিতে হয় কঠিন সিদ্ধান্ত।
দীর্ঘ ইঞ্জুরি থেকে ফেরার পর সান্তোসের হয়ে ভালোই কাটাচ্ছিলেন নেইমার। গোল এসিস্ট পাচ্ছিলেন বেশ নিয়মিত। সেখান থেকে করিন্থিয়াসের বিপক্ষে অস্বস্তিতে ছিটকে যান নেইমার। এরপর ব্রাজিল দল থেকেও নিজের নাম নেন সরিয়ে। আগামী দিনে বিশ্বকাপ সহ নানা ট্রফিকে ঘিরে বড় পরিকল্পনা নেইমির। যে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে ঝুকিমুক্ত থাকতে চান এই সুপারস্টার। আর তার অংশ হিসেবে ব্রাজিলে ফেরার দিনক্ষণ পিছিয়ে দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ গোলদাতা।
এদিকে আরো অভাগা লিওনেল মেসি। নিজের ক্যারিয়ারে কখনই ফিটনেস ইস্যু না থাকলেও শেষ বয়সে এসে ইঞ্জুরি নিয়ে একটু ভুগছেন এই আর্জেন্টাইন সুপারস্টার। সেখানে জাতীয় দলের হয়ে খেলতে এমএলএসে ২ ম্যাচ দলের সাথেই ছিলেন না মেসি। এমনকি ফিরে এসেও নামেন এক ম্যাচে বদলি হিসেবে। তবে তাতেও কাজের কাজ হয়নি। এত সুরক্ষা মানলেও উড়ুগুয়ে ও ব্রাজিলের মত গুরুত্বপূর্ণ দুই ম্যাচে মেসি খেলার জন্য উপর্যুক্ত হননি। মায়ামির শেষ ম্যাচে পুরো সময় খেললেও মেসির ইঞ্জুরি আশঙ্কা এখনও যায়নি। নেইমির মত তিনিও তাই নিজেকে বিশ্রামে দিয়েছেন।
মেসি নেইমার না থাকলে কিছুটা রঙ হারাবে সুপার ক্লাসিকো, কোন সন্দেহ নেই। তবে মাথায় রাখতে হবে লড়াইটা শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার। সেখানে নতুন এক ঝাক খেলোয়াড় খেললেও সবার নজর থাকবে এই ম্যাচের দিকে। আর এই ম্যাচ দুই দেশের ফুটবলের নবযুগের সুচনা করে দিতে পারে।
একদিকে সেখানে দায়িত্ব নিতে হবে আলভারেজ, লাউতারোদের। অপরদিকে ব্রাজিল দলে ভিনি, রাফিনহাদের উপর থাকবে দায়িত্ব। এদের মাঝ থেকে আলমাদা বা স্যাভিও এর মত প্রতিভাবানরা দারুণ কিছু করলে তারা কোচের বিবেচনায় চলে আসবেন নিয়মিত। এছাড়া মেসি ও নেইমার বিহীন কারা নেন দায়িত্ব, কোন দল আক্রমণভাগে কেমন করে সেটাও বড় প্রশ্ন থাকবে। সেক্ষেত্রে আর্জেন্টাইন মিডে খেলা ম্যাক এলিস্টার বা এঞ্জো ফার্নান্দেজদের ক্রিয়েটিভিটির বড় পরীক্ষাও থাকবে।
সব কিছু মিলিয়ে ২৬ মার্চ লাতিন আমেরিকান ফুটবল নতুন কিছুর অপেক্ষায়ই থাকবে। দুই সেরা তারকাবিহীন লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কে পরে তারকার মুকুট, সেটাই এখন দেখার বিষয়।




