বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলে চলছে ব্যর্থতার মিছিল। আরব আমিরাতের পর পাকিস্তান সিরিজেও মুখ থুবড়ে পড়েছে টাইগাররা।
একের পর এক হারের বৃত্তে বন্দি বাংলাদেশ ক্রিকেট। কোথাও ব্যাটিং ব্যর্থতা, কোথাও বোলিং ভরাডুবি।
তবে সামগ্রিকভাবে ব্যর্থতার মূল কারণ— টপ অর্ডারের ধ্বংসস্তুপ, বিশেষ করে ৩ ও ৪ নম্বর পজিশনে থাকা ব্যাটারদের নাজুক পারফরম্যান্স।
তিন নম্বরে খেলেন নাজমুল হোসেন শান্ত, আর চার নম্বরে তাওহিদ হৃদয়। কিন্তু বারবার সুযোগ পেলেও দলের প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ তারা। দুইজনের ব্যাট থেকেই বের হয় না প্রয়োজনীয় রান। ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে এই গুরুত্বপূর্ণ দুটি পজিশন।
অথচ এ দুই পজিশন বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপের মেরুদণ্ড হওয়ার কথা!
বিকল্প হিসেবে এক সময় সৌম্য সরকারকে আনা হয়েছিল এই পজিশনে। কিন্তু তাও ফলপ্রসূ হয়নি।
কারণ, সৌম্যকে দলে নেয়া হয়েছিল এমন সময়, যখন তিনি নিজেই ছন্দ হারিয়ে বসেছিলেন। প্রশ্ন থেকে যায়— একদিকে ফর্মে না থাকা ক্রিকেটারদের বারবার সুযোগ দেয়া হচ্ছে, অন্যদিকে যারা দারুণ পারফর্ম করছে, তাদের রাখা হচ্ছে একেবারেই দল থেকে বাইরে!
এমন এক সময়, জাতীয় দলের দরজা যাঁর জন্য বন্ধ, সেই সাব্বির রহমানই দেখিয়ে চলেছেন ধারাবাহিক পারফরম্যান্স।
দেশে হোক কিংবা বিদেশে, যেখানে সুযোগ পাচ্ছেন, সেখানেই প্রমাণ করছেন নিজের সামর্থ্য।
যদিও সাম্প্রতিক ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) তেমন কিছু করতে পারেননি, তবে তিনি থেমে যাননি।
এবার ইংল্যান্ডের মাটিতে নিজের ঝলক দেখালেন সাব্বির।
ইংল্যান্ডের টেমস ভ্যালি ক্রিকেট লিগের ডিভিশন ওয়ানে উক্সব্রিজ ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে খেলতে নেমে ৯৬ বলে ১৫২ রানের এক মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেছেন এই ডানহাতি ব্যাটার।
ওই ইনিংসে ৯টি বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন, সাব্বির এখনও ফুরিয়ে যাননি। তিনি যে এখনও আগুনের মতো জ্বলছেন, তা মাঠেই দেখিয়ে দিচ্ছেন।
এই ইনিংস শুধু একটা ম্যাচ জেতানোর গল্প নয়, এটা সেই চেপে রাখা প্রতিভার বিস্ফোরণ, যাকে জাতীয় দলে আর জায়গা দেওয়া হয় না।
আজ যখন শান্ত আর হৃদয়ের মত ব্যাটাররা ব্যর্থতার চূড়ায়, তখন সাব্বির রহমানের এই ইনিংস যেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের চরম ব্যর্থতার প্রতি এক নীরব প্রতিবাদ।
জাতীয় দল যেখানে ব্যাটিং ব্যর্থতায় ধুঁকছে, সেখানে সাব্বির রহমান হতে পারতেন বড় ভরসা।
কিন্তু তাকে নিয়মিতভাবে উপেক্ষা করা হচ্ছে। প্রশ্ন জাগে— কেন তাকে আর একবার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না?
একজন সাব্বির রহমান, যিনি ম্যাচ জেতাতে জানেন, যিনি চাপের মাঝে ব্যাট হাতে কথা বলতে জানেন, তিনি কি তবে শুধু অবহেলার ইতিহাস হয়েই থাকবেন?
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের উচিত সাব্বিরের এই পারফরম্যান্সকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা। কারণ, আজ যখন গর্ব করার মতো কিছু নেই, তখন গর্ব করার মতো নাম— সাব্বির রহমান, এখনো আছেন, এখনও জ্বলে উঠছেন।




