লর্ডসের ঐতিহাসিক মঞ্চে সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে অবশেষে ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত স্বীকৃতি পেল দক্ষিণ আফ্রিকা।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো টেস্ট ফরম্যাটে ‘বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন’ হওয়ার গৌরব অর্জন করলো প্রোটিয়ারা।
চতুর্থ দিনের শুরুতে জয়ের জন্য ৬৯ রানের প্রয়োজন ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার।
আগের ইনিংসে মাত্র ১৩৮ রানে অলআউট হয়ে পড়া দলটির সামনে ছিল ২৮২ রানের কঠিন লক্ষ্য।
কিন্তু দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে সেই লক্ষ্য পেরিয়ে গেল তারা, যা টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় জয় হিসেবে জায়গা করে নেবে।
চতুর্থ ইনিংসে ২৮২ রান তাড়া করে জয় পাওয়া দুঃসাধ্য ব্যাপার—১৪৮ বছরের টেস্ট ইতিহাসে এমন ঘটনা ঘটেছে মাত্র ৫০ বার।
লর্ডসে এর আগে মাত্র দুবারই এত বড় লক্ষ্য তাড়া করে জয় পেয়েছিল কোনো দল।
আজ দক্ষিণ আফ্রিকা সেই তালিকায় যুক্ত হয়ে সংখ্যাটি তিনে নিয়ে গেল।
অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা দিনের শুরুতেই হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে বিদায় নিলেও, অন্যপ্রান্তে ছিলেন আত্মবিশ্বাসী ওপেনার এইডেন মার্করাম।
ছয় মাস পর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ফিরেই ১৩৬ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন তিনি। জয়ের মাত্র ৬ রান দূরে থাকতে জশ হ্যাজলউডের বলে মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়ে আউট হলেও, জয় তখন কেবল সময়ের ব্যাপার।
বাভুমা ও মার্করামের ১৪৭ রানের জুটি মূলত ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয় অস্ট্রেলিয়াকে। হ্যামস্ট্রিংয়ে ভুগেও বাভুমা দলকে নেতৃত্ব দিয়ে যান, যদিও দিন শুরু করে মাত্র ১ রান যোগ করেই বিদায় নেন।
এই জয় শুধু একটি শিরোপাই এনে দেয়নি, বদলে দিয়েছে একটি দলের পুরো ইতিহাস।
১৯৯২ সালে ব্রিজটাউনে ফিরেই যখন দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্টে হারে মাত্র ২৬ রানের ব্যবধানে, তখন থেকেই তাদের নামের পাশে জুড়ে গিয়েছিল চাপের মুখে ভেঙে পড়ার পরিচয়।
এরপর একের পর এক বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে নকআউটে হারের বৃত্ত থেকে যেন বের হতেই পারছিল না দলটি।
১৯৯৮ সালে আইসিসি নকআউট ট্রফি (বর্তমান চ্যাম্পিয়নস ট্রফি) জেতা ছাড়া বড় মঞ্চে জয় ছিল না দক্ষিণ আফ্রিকার। বিশ্বকাপ, টি-টোয়েন্টি বা চ্যাম্পিয়নশিপ—সব জায়গায় বারবার গড়বড় করেছে ফেভারিটরা।
আজকের এই জয় সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটালো। টেস্ট ক্রিকেটে ফিরে আসার ৩৩ বছর পর প্রোটিয়ারা এখন বিশ্বসেরার আসনে।
শেষ মুহূর্তে কাইল ভেরেইনা জয়সূচক রানটি নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ড্রেসিংরুম।
কারও চোখে জল, কারও মুখে হাসি। ক্রিকেটের দীর্ঘদিনের ‘আন্ডার অ্যাচিভার’ তকমা ঘোচাল দক্ষিণ আফ্রিকা।
আজ লর্ডসে, দক্ষিণ আফ্রিকা বলতেই পারে— *”আমরাও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন!




