সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা নাজমুল হোসেন শান্ত আবারও প্রমাণ করলেন—চুপচাপ ব্যাটেই জবাব দিতে জানেন তিনি।
টেস্টে বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব পাওয়ার পর থেকে চাপের মধ্যেই খেলছেন, তবে শ্রীলঙ্কার মাটিতে চলমান টেস্টে শান্ত যেভাবে ব্যাট করলেন, তাতে সন্দেহ নেই—এই বাঁহাতি ব্যাটার জানেন কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয়।
প্রথম ইনিংসে ১৯০ বলে ৯ চার মেরে ১৪৮ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন শান্ত। কিন্তু এখানেই থেমে থাকেননি তিনি।
দ্বিতীয় ইনিংসে আবারও ব্যাট হাতে ঝলসে উঠলেন, তুলে নিলেন আরও একটি শতক। আর এর মধ্য দিয়ে গড়লেন একাধিক কীর্তি।
বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে এক টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করার কীর্তি এবার দ্বিতীয়বারের মতো গড়লেন শান্ত।
এর আগে ২০২৩ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে মিরপুরে করেছিলেন এমন কীর্তি।
দেশের হয়ে একমাত্র আরেক ব্যাটসম্যান মুমিনুল হকই আছেন এই তালিকায়, যিনি ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এক ম্যাচে জোড়া সেঞ্চুরি করেছিলেন।
বিশ্ব ক্রিকেটে মাত্র ১৪ জন ব্যাটসম্যান দুই বা তার বেশি টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরি করার নজির গড়েছেন। শান্ত এখন সেই অভিজাত তালিকায়।
তার সঙ্গে আছেন সুনীল গাভাস্কার, রিকি পন্টিং, ডেভিড ওয়ার্নারের মতো কিংবদন্তিরা, যারা তিনটি করে ম্যাচে এমন কীর্তি গড়েছেন।
অধিনায়ক হিসেবে এটি শান্তর প্রথম জোড়া সেঞ্চুরি। ফলে অধিনায়ক হিসেবে এক ম্যাচে দুই ইনিংসে শতক করা ১৬তম ব্যাটসম্যান এখন তিনি।
শুধু তাই নয়, বিদেশের মাটিতে অধিনায়ক হিসেবে জোড়া সেঞ্চুরি করার দিক থেকেও তিনি অষ্টম খেলোয়াড়।
শ্রীলঙ্কার মাটিতে এর আগে কোনো বিদেশি অধিনায়ক এমন কিছু করতে পারেননি।
শ্রীলঙ্কার থারিন্ডু রাত্নায়েকের বলে রিভার্স সুইপ করে রান নেওয়ার সময়ই শান্ত জানতেন কী অর্জন করতে যাচ্ছেন।
ক্রিজের মাঝপথে হেলমেট খুলে উদযাপন করলেন নিজের অনন্য অর্জন।
টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি শান্তর সপ্তম শতক। বাংলাদেশের ইতিহাসে তার চেয়ে বেশি সেঞ্চুরি আছে কেবল মুমিনুল হক (১৩), মুশফিকুর রহিম (১২) ও তামিম ইকবালের (১০)।
চলতি ম্যাচে শান্তর সংগ্রহ এখন পর্যন্ত ২৪৮ রান—যা বাংলাদেশের কোনো অধিনায়কের এক টেস্টে সর্বোচ্চ।
আগের রেকর্ডটি ছিল মুশফিকুর রহিমের, যিনি ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে করেছিলেন ২০০ রান।
সব মিলিয়ে শান্তর এই ইনিংস কেবল পরিসংখ্যান নয়, আত্মবিশ্বাস, সাহস ও নেতৃত্বগুণের প্রতিচ্ছবি।
সমালোচকদের তিনি ব্যাটে জবাব দিয়েছেন—এবং তা একেবারে ইতিহাস গড়ে।




