গল টেস্টে বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স দেখে সন্তুষ্ট দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা।
সেই তালিকায় রয়েছেন সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমনও। টেস্ট ম্যাচের পর তার প্রতিক্রিয়া ছিল এককথায়, “আমাকে যদি বলতে বলেন আমি স্যাটিসফাইড।”
শুধু তিনিই নন, দেশের ক্রিকেট বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সাধারণ ভক্তরাও এই টেস্টে টাইগারদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট।
বিশেষ করে ব্যাটিং বিভাগে যা করেছে বাংলাদেশ, তা ছিল প্রশংসাযোগ্য।
প্রথম ইনিংসে ৪৯৫ রান—যেখানে শান্ত ও মুশফিক ছিলেন নায়ক।
শান্ত তুলে নেন পরিণত ইনিংসের এক সেঞ্চুরি, আর অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম খেলে যান অনবদ্য ১৬৯ রানের এক ইনিংস।
দ্বিতীয় ইনিংসেও শান্ত থেমে থাকেননি। তুলে নেন আরেকটি সেঞ্চুরি।
টেস্টের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করে জায়গা করে নেন এক গর্বিত তালিকায়।
এমন দৃঢ়তা ও ধারাবাহিকতা দেখে প্রশংসা না করে উপায় থাকে না।
এই শান্তকে নিয়েই বাশার বলেন, “ও যদি পরের কিছু ম্যাচে রান না-ও করে, তবু তাকে নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিৎ হবে না।”
বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন আপে শান্ত ও মুশফিক যখন আস্থা ও আনন্দের প্রতীক, তখন কিছু খেলোয়াড় আছেন যাদের পারফরম্যান্স নিয়ে চলছে সমালোচনার ঝড়। সেই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন এনামুল হক বিজয়।
ঘরোয়া ক্রিকেটে রান মেশিন হিসেবে পরিচিত বিজয়। জাতীয় লিগ থেকে বিসিএলে ধারাবাহিক রান করেছেন বছর জুড়ে। কিন্তু আন্তর্জাতিক মঞ্চে নামলেই যেন খেই হারিয়ে ফেলেন এই ব্যাটার।
পরিসংখ্যান বলছে, আন্তর্জাতিক টেস্টে ১৩ ইনিংসে বিজয়ের সংগ্রহ মাত্র ১৪৩ রান। গড় ১১-এরও নিচে। কোনো ফিফটি নেই, সেঞ্চুরির তো প্রশ্নই ওঠে না। চার মেরেছেন মাত্র ১৮টি, ছক্কা নেই একটিও। এই পরিসংখ্যান শুধু হতাশাজনকই নয়, বরং লজ্জারও বটে।
তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে—সমস্যা কোথায়? বিজয়ের নিজের টেম্পারমেন্টে, মানসিক প্রস্তুতিতে, নাকি ঘরোয়া ক্রিকেটেই চলছে ব্যাটারদের ‘মিথ্যা সোনার খনি’ আবিষ্কার?
গল টেস্টে বাংলাদেশ জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়ে ড্র মানতে বাধ্য হলেও, এই ম্যাচে পাওয়া প্রাপ্তির তালিকা বেশ লম্বা।
শান্ত-মুশফিকের ব্যাটিং, নাঈম-তাইজুলের বোলিং, এবং দলের মানসিক দৃঢ়তা সবই দেখিয়েছে উন্নতির ইঙ্গিত।
তবে বিজয়ের ব্যাটিং শূন্যতায় যেন সেই আনন্দের মাঝে একটা ‘কালো দাগ’ থেকেই গেল।
আগামী ২৫ জুন দ্বিতীয় টেস্টে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে দলের জয় যেমন দরকার, তেমনি দরকার বিজয়ের ব্যাটে জবাব।
না হলে তাকে নিয়ে প্রশ্নগুলো আর চুপ করে বসে থাকবে না—তাতে কোনো সন্দেহ নেই।




