বাংলাদেশ সময় সকালে খেললেন জাতীয় দলের হয়ে। আবার বাংলাদেশ সময় রাতেই আবারো মাঠে নামলেন।
২১ ঘন্টার ব্যাবধানে দুটি আলাদা দেশে দুটি আলাদা দলের হয়ে খেললেন প্রতিযোগিতামুলক ম্যাচ।
এমন কীর্তিই করলেন ব্রাজিলের মিডফিল্ডার জেন লুকাস। লুকাসের এমন কীর্তি নিয়ে বিস্তারিত থাকছে প্রতিবেদনে
বলিভিয়ার হাজার ফুট উচ্চতার মাঠ নিয়ে অনেক অভিযোগ। যেখানে খেলতে গিয়ে অনেকে নিয়ে গেছেন অক্সিজেন সিলিন্ডার।
অনেক অভিযোগ করেছেন বাতাস ও পরিস্থিতি নিয়ে। এমন এক ম্যাচ, যেখানেই খেলাটাই কঠিন হয়ে গিয়েছিল খেলোয়াড়দের জন্য, সেখান থেকে ম্যাচ খেলে আবারো একই দিনে মাঠে নেমেছেন একজন। আর সেটা ব্রাজিলের মিডফিল্ডার জেন লুকাস।
বাহিয়ার এই মিডফিল্ডার জোয়েলিংটনের বদলে ডাক পান ব্রাজিল দলে। প্রথমবারের মতই গায়ে দেন সেলেসাও জার্সি।
আর সেই জার্সি গায়ে দিয়েই হয়ে যায় অভিষেক। বলিভিয়ার বিপক্ষে দল হারলেও দিনটা স্মরণীয় থাকবে লুকাসের জন্য।
এদিনই ব্রাজিলের জার্সিতে প্রথমবারের মত মাঠে নামেন তিনি। ৭৩ মিনিটে সান্তোসের বদলি হয়ে নামেন, ২২ মিনিটের মত থাকেন মাঠে।
তবে একই দিনে মাঠে নামেন আবার জেন লুকাস। ১০ সেপ্টেম্বর সকাল ৫.৩০ এ শুরু হয় বলিভিয়া বনাম ব্রাজিলের ম্যাচ।
যে ম্যাচ শেষ হয় সকাল ৭.৩০ এর পর। যেটি অনুষ্ঠিত হয় বলিভিয়ার রাজধানীতে।
লা পাজ থেকে এরপর লুকাস যান ব্রাজিলে। মাত্র ২১ ঘন্টার ব্যাবধানে আবারো মাঠে নামেন। সেটিও আবার সরাসরি মুল একাদশে।
ব্রাজিলের ক্লাব ফ্ল্যামেঙ্গোর বিপক্ষে ব্রাজিল কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মাঠে নামেন জেন লুকাস।
খেলেন পুরো ৯০ মিনিটে। মাত্র ২৫ ঘন্টার ব্যাবধানে খেলেন দুটি ম্যাচ। সেটিও আবার আলাদা দুই কম্পিটিশনে, আলাদা দুই দলের বিপক্ষে।
এমনটা নয় বলিভিয়া থেকে খুব কাছে ব্রাজিল। যে শহরে খেলা হয়েছে, সেই শহর লা পাজ থেকে ব্রাজিলে যেতে সময় লাগে ৫ ঘন্টা ৩০ মিনিট।
৭.৩০ এর পর একটা ফুটবল ম্যাচ শেষ করেছেন, সেটিও বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ, নিজের অভিষেক ম্যাচ জাতীয় দলের হয়ে।
সেখান থেকে দলের সাথে সব কাজ সেরে মাঠ ছেড়েছেন। এরপর প্রায় ৬ ঘন্টার যাত্রা শেষে যোগ দেন ক্লাবের হয়ে। এরপর নেমে যান ক্লাবের হয়ে কাপের ম্যাচ খেলতে, সেটাও ফিলিপে লুইসের শক্তিশালী ফ্ল্যামেঙ্গোর বিপক্ষে। সেখানেও খেলেন পুরো ৯০ মিনিট।
লা পাজের আবহাওয়া থেকে একদিনে ব্রাজিলে এসে ম্যাচ, টানা দুটি এওয়ে ম্যাচ খেলেন আলাদা জায়গায়।
নিজেকে যেন সম্পুর্ণ উজাড় করেই দেন লুকাস।
অবশ্য দুর্ভাগা বলতে হবে লুকাসকে। দুই ম্যাচের এক ম্যাচেও জয় পায়নি তার দল। শুরুর ম্যাচে ব্রাজিল হেরেছে ১-০ গোলে।
এরপর ফ্ল্যামেঙ্গোর কাছে ক্লাব হারে ২-০ গোলে, কোয়ার্টার থেকে নেয় বিদায়।
তবে দল হারলেও আলাদাভাবে আলোচনায় অবশ্যই থাকবে জেন লুকাসের এমন কীর্তি।




