২০০৭ সালে এসেছেন আন্তজার্তিক অঙ্গনে, দুই দশক ধরে খেলে যাচ্ছেন বাংলাদেশ দলে। আর সেখানে দেশের বাইরেও নিজের পরিচয়কে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন সাকিব আল হাসান।
আন্তজার্তিক ক্রিকেটেও লিজেন্ডদের কাতারে থাকা সাকিব। এর সাথে ৩ কারণে তিনি আলাদা অন্য সবার থেকেই।
প্রথম কারণ হবে সাকিব আল হাসানের তিন ফরম্যাটের রাজত্ব৷ টেস্ট, ওয়ানডে ও টি–টোয়েন্টি, তিন ফরম্যাটেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ধরে রাখা অত্যন্ত কঠিন।
যেখানে রাশিদ, হার্দিক শর্টার ফরম্যাটে ভালো হলেও লঙ্গার ফরম্যাটে নয়, আবার জাদেজা, আশ্বিনরা লঙ্গার ফরম্যাটে ভালো করলেও শর্টার ফরম্যাটে সেরাদের কাতারে নয়। কিন্তু সাকিব বছরের পর বছর আইসিসি অলরাউন্ডার র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থেকেছেন।
ব্যাট হাতে নির্ভরযোগ্য, বল হাতে উইকেটশিকারি এই দ্বৈত দক্ষতা তাঁকে বিশ্বের সেরাদের কাতারে বসিয়েছে। এমনকি একই সঙ্গে ব্যাটিং ও বোলিং র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ওঠার বিরল কীর্তিও আছে তাঁর।
পরিসংখ্যানই বলে দেয়, তিনি কেবল বাংলাদেশের নয়, বিশ্ব ক্রিকেটেরই সম্পদ।
সাকিব আল হাসান আলাদা তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের কারণে। অলরাউন্ডারদের চাপ থাকে বেশি, একইসাথে ব্যাটিং ও বোলিং দুইদিকেই সমান নজর রাখতে হয়। সেখানে তাই অনেকের ক্যারিয়ার দীর্ঘ হয়না। আবার অনেকে বেছে বেছে নেন এক ফরম্যাট।
এক বা দুই বছর ভালো খেলা সহজ, কিন্তু দেড় দশকের বেশি সময় ধরে শীর্ষ পর্যায়ে টিকে থাকা বিরল।
সাকিব দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশ দলের কেন্দ্রবিন্দু। তিনি শুধু পারফর্মই করেন না, দলের আত্মবিশ্বাসও বাড়ান। মাঠে তাঁর উপস্থিতি মানেই প্রতিপক্ষের জন্য আলাদা পরিকল্পনা। নেতৃত্বের ভূমিকাতেও তিনি দলকে সামনে থেকে পথ দেখিয়েছেন।
তিন নাম্বার বৈশিষ্ট্য হবে সাকিবের ব্যাট ও বল হাতে সমান দায়িত্ব। নিজ দলের অন্যতম সেরা বোলার সাকিব, অন্যতম সেরা ব্যাটারও৷ এমনকি দুই জায়গায় তাকে আলাদা করার সুযোগ ছিলনা।
রাশিদ, জাদেজাদের মুল দায়িত্ব ছিল বল হাতে, হার্দিক বা স্টোকসকে ব্যাট হাতে করতে হয় আসল কাজ। সেখানে ব্যাতিক্রম সাকিব, দুইদিকেই সমানভাবে তার দিকে চাতক পাখির মত চেয়ে থাকত ভক্তরা। এমনকি ক্যারিয়ারের শুরুর দিন থেকেই সাকিব দুই জায়গায়ই পারফর্ম করেছেন ড্রাইভার হিসেবেই।
সব মিলিয়ে এই ৩ গুণ সাকিবকে করে অনন্য, অন্য সবার চেয়ে আলাদা। যে কারণে বিশ্বক্রিকেটে অন্যতম চর্চার নাম সাকিব আল হাসান, বাংলাদেশ ক্রিকেটের যে রত্ন।




