জাতীয় দলে ফেরানোর দাবি ছিল তাকে নিয়ে। কিন্ত ফেরার প্লাটফর্মটাই ঠিকঠাক পাচ্ছিলেননা সাব্বির রহমান। এনসিএল, বিপিএলে এভারেজের চেয়ে ভালো করলেও ছিলেন না বিসিবির আয়োজিত তিন দলের টি২০ সিরিজে। শেষ পর্যন্ত ডাক পান ফাইনালের মঞ্চে। তবে আবারো বিসিএলের অডিয়াই দলে অনুপস্থিত সাব্বির রহমান। এবার দলে থাকলেও সাব্বির রহমানকে শুরুতে থাকতে হয়েছে বসে
সেখান থেকে শান্তের দলে সাব্বির সুযোগ পেয়েছেন শেষ ম্যাচে। সেন্ট্রাল জোনের বিপক্ষে ম্যাচে সুযোগটা আসে সাব্বিরের৷ সেই সুযোগটা পেয়েই যেন তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলেন সাব্বির রহমান।
৩১ ওভারে যখন মাঠে নামেন, তখন দলের রান ১৭১। সেখান থেকেই তাওহীদ হৃদয়ের সাথে করেন শতরানের এক পার্টনারশিপ। হৃদয় একদিকে শতক তুলে নেন, আর সাব্বির রহমান খেলতে থাকেন চড়াও হয়ে।
এদিন রিপন মন্ডল, তাসকিন আহমেদ, আবু হায়দার রনির মত প্রিমিয়াম বোলারদের বাউন্ডারি ছাড়া করেছেন সাব্বির। লং অন, লং অফ, মিড উইকেট দিয়ে আরামশে ছক্কা হাকিয়েছেন সাব্বির। এমনকি রিপন মন্ডলের ইয়ার্কারেও ছক্কা আসে সাব্বিরের ব্যাট থেকে। ছয়ে নেমে এদিন সাব্বির হাকান ম্যাচে সর্বোচ্চ ৫ ছক্কা।
শেষ পর্যন্ত সাব্বির আউট হয়ে ফিরেন দলের শেষ অভারে। তবে রিপন মন্ডলের বলে বোল্ড হবার আগে কাজের কাজটা ঠিকই করে গেছেন এই ব্যাটসম্যানরা। তার ব্যাটে ভড় করে নর্থ জোন করে ৩২২ রানের বিশাল স্কোর। যে পাহাড়সম লক্ষ্যই চাপে ফেলে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের
সাব্বির রহমানের থেকে দর্শকদের প্রত্যাশার জায়গাটা বড়। কারণ সাব্বির রহমান এ ধরণের ইনিংস খেলতে পারেন। সাব্বির রহমানের সামর্থ্য নিয়ে কোন সংশয় নেই। নিজের দিনে যেকোন দিনে যেকারো বিপক্ষে চড়াও হতে পারে তার ব্যাট। এই যেমন তাসকিন, রিপনদের মত ফর্মে থাকা বোলারদের ছাড় দিলেন না সাব্বির, একই সাথে স্ট্রাইক রেটটাও রাখলেন ১৪০ এর উপর।
জাতীয় দলে ভালো মানের ফিনিশারের অভাব নতুন জয়। সর্বশেষ এই সাব্বিরই দলকে আশা দেখাচ্ছিলেন। তবে তারপরে কেউই দলে এসে আশার প্রতিফলন করতে পারেননি। সাব্বির রহমান তাই ঘুরে ফিরে গেথে আছেন ভক্তদের হৃদয়ে। তবে ভক্তদের আনন্দ দেওয়ার পথটাও খোলা আছে সাব্বিরের জন্য। বিসিএলে যে ইনিংস খেললেন, সেই ইনিংসটাই খেলতে হবে ধারাবাহিকভাবে। সাব্বির পারেন এটা সবারই জানা, কিন্ত সেই দক্ষতাকেই নিয়মিত কাজে লাগাতে হবে দলের জন্য। এবার দেখা যাক, এবার অন্তত ভক্তদের মনের আশা পুরণ করতে পারেন কিনা এই ব্যাটসম্যান।




