উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে আছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
তাই অনেকেই তাঁকেই এই টুর্নামেন্টের “রাজা” বলে থাকেন। তবে পরিসংখ্যানের গভীরে গেলে দেখা যায়, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সূচকে লিওনেল মেসি রোনালদোর সঙ্গে সমানতালে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে এগিয়েও আছেন।
কেবল মোট গোল নয়, গোলের গড়, অ্যাসিস্ট, ড্রিবল, চাঞ্চ ক্রিয়েট সব মিলিয়ে বিশ্লেষণ করলে মেসিই আছেন শীর্ষে।
ক্রিশ্চিয়ানো ভক্তদের বড় অহঙ্কার চ্যাম্পিয়নস লীগে সর্বোচ্চ গোল নিয়ে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো চ্যাম্পিয়নস লিগে ১৪০ গোল করেছেন ১৮০-এর বেশি ম্যাচে।
অন্যদিকে লিওনেল মেসির গোল ১২৯ টি, যা তিনি করেছেন ১৬০-এর বেশি ম্যাচে। মোট গোলের হিসেবে রোনালদো এগিয়ে।
তবে গোল-প্রতি-ম্যাচ গড়ে ব্যবধান রোনালদোকে টপকে গেছেন মেসি। মেসির গড় প্রায় ০.৭৯, রোনালদোর প্রায় ০.৭৭।
অর্থাৎ ম্যাচসংখ্যা বিবেচনায় নিলে মেসির স্কোরিং দক্ষতা সামান্য এগিয়ে। এমনকি গোল এসিস্টের গড়েও এগিয়ে মেসি। ৮০ মিনিটে এক গোল এসিস্ট এলএমটেনের, রোনালদোর সংখ্যাটা দ্বাড়ায় ৮৮ তে
গোলে তাও মেসির কাছাকাছি ছিলেন রোনালদো, ড্রিবলিং ও চাঞ্চ ক্রিয়েটে নেই কাছাকাছি অবস্থানেও। সফল ড্রিবলের হিসাবে লিওনেল মেসি চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসে শীর্ষে আছে।
৬০০-এর বেশি সফল ড্রিবল তাঁর নামে, মোট করেছেন ৬৮৭ ড্রিবলিং। বিপরীতে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সফল ড্রিবলের সংখ্যা ৪৩৫ টি।
ম্যাচপ্রতি মেসির ড্রিবলিং যেখানে ৪.৫০ টি রোনালদোর সেখানে মাত্র ২.০৫ টি। এর বাইরে কী-পাস, বিগ চাঞ্চ ক্রিয়েট এসব সূচকেও মেসি দীর্ঘ সময় এগিয়ে ছিলেন।
চ্যাম্পিয়নস লীগে মেসি ৭৭ চাঞ্চ ক্রিয়েট করল্র রোনালদো করেন মোটে ৪৫ চাঞ্চ ক্রিয়েট৷ ফলে আক্রমণে তাঁর অবদান কেবল ফিনিশিংএ নয়, বরং তিনি খেলা তৈরি ও নিয়ন্ত্রণ দুটোই করেন।
সবশেষে বলা যায়, মোট গোল ও শিরোপায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এগিয়ে। কিন্তু গোল-প্রতি-ম্যাচ গড়, অ্যাসিস্ট, ড্রিবল ও ক্রিয়েটিভিটি অবদানে লিওনেল মেসি সমানতালে কিংবা কিছু ক্ষেত্রে বেশ এগিয়ে।\
অপরদিকে দলগত এক সাফল্য কম আছে মেসির। কিন্ত মেসি বার্সেলোনার হয়ে তাদের ৮০ ভাগ চ্যাম্পিয়নস লীগ জয়ী দলের অংশ ছিলেন।
তবে রোনালদোর রিয়াল মাদ্রিদের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা ২৫ ভাগ। অর্থ্যাৎ ক্লাবের ইম্প্যাক্টেও এগিয়ে লিওনেল। তাই সামগ্রিক বিচারে রোনালদো নন, এই আসরের আসল রাজা আর্জেন্টাইন মেসিই।




