বাংলাদেশ ক্রিকেটে “ফিনিশার” শব্দটি বরাবরই কিছুটা দুর্লভ ছিল। তবে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে সেই শূন্যতা পূরণের ইঙ্গিত দিচ্ছেন শামীম হোসেন পাটোয়ারি।
তার ব্যাটিং স্টাইল, আগ্রাসন এবং ম্যাচের শেষ দিকে গতি বাড়ানোর সক্ষমতা তাকে আলাদা করে তুলছে সমসাময়িকদের থেকে।
ম্যাচের শুরুটা ভালো ছিল না বাংলাদেশের জন্য। দুই ওপেনার দ্রুত বিদায় নেওয়ার পর ২১ রান করে ফিরে যান অধিনায়ক লিটন দাসও।
এমন অবস্থায় চাপ সামলে মিডল অর্ডারে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন তাওহীদ হৃদয়, পারভেজ হোসেন ইমন এবং শামীম।
হৃদয় অ্যাংকরের ভূমিকা পালন করে ১৮৮.৮৮ স্ট্রাইক রেটে ইনিংস সাজালেও, ইমন ও শামীম খেলেছেন আরও আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে, দুজনেই ২০০-এর বেশি স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করেছেন।
তবে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছেন শামীম। ছয়ে নেমে মাত্র ১৩ বলেই ৩১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি, যার স্ট্রাইক রেট দাঁড়ায় ২৩৮.৪৬,প্রায় ৩০০-এর কাছাকাছি এক বিস্ফোরক ইনিংস।
তার ইনিংসে ছিল ২টি ছক্কা ও ৩টি চার, বিশেষ করে তার ব্যাক সাইডে হাকানো নো লুকের সিক্স আজ সবচেয়ে বেশি চর্চিত।
অন্যদিকে ইমন ১৪ বলে ২৮ রান করেন, আর হৃদয় পরে অপরাজিত ৫১ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন।
শামীমের ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি তার ৩৬০-ডিগ্রি শট খেলার দক্ষতা। মাঠের যেকোনো দিকে শট খেলতে পারার পাশাপাশি প্রয়োজনে সুইচ হিট কিংবা রিভার্স সুইপের মতো ঝুঁকিপূর্ণ শটও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলেন তিনি।
তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের স্ট্রাইক রেট ১৩৬-এর বেশি, যা প্রমাণ করে তিনি নিয়মিতভাবেই দ্রুত রান তোলার সক্ষমতা রাখেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে ৯৮টি ছক্কা এবং আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২০টি ছক্কা তার বড় শট খেলার দক্ষতার সাক্ষ্য দেয়।
সবকিছু মিলিয়ে শামীমের সেই সামর্থ্য আছে,যা ছিলোনা অতীতের কোনো ফিনিশারের!




