পাকিস্তানের উদীয়মান ব্যাটার হাসান নেওয়াজ সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ নিয়ে নিজের খোলামেলা মনোভাব প্রকাশ করেছেন।
তার মতে, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ মানেই বাড়তি উত্তেজনা, বাড়তি প্রেরণা এবং নিজের সেরাটা উজাড় করে দেওয়ার এক ভিন্ন অনুভূতি।
এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে তিনি কেবল একটি সাধারণ ম্যাচ হিসেবে দেখেন না; বরং এটি খেলোয়াড়দের মানসিকতা ও আগ্রাসনের এক বড় পরীক্ষা।
নেওয়াজ স্পষ্টভাবেই বলেন, ভারতের বিপক্ষে খেলতে নামলে ভেতর থেকেই এক ধরনের তাড়না কাজ করে। প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করার প্রবল ইচ্ছা তাকে অনুপ্রাণিত করে।
এমনকি তিনি সরাসরি মন্তব্য করে বলেন, “ভারতের সব বোলারকে আমি ঘৃণা করি,” যা তার প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ।
তবে এই বক্তব্যকে তিনি ব্যক্তিগত বিদ্বেষ হিসেবে নয়, বরং মাঠের লড়াইয়ের অংশ হিসেবেই ব্যাখ্যা করেছেন।
তবে আগ্রাসী এই মনোভাবের পাশাপাশি আধুনিক ক্রিকেটের বাস্তবতাও ভালোভাবেই উপলব্ধি করেন ২৩ বছর বয়সী এই ব্যাটার।
তার মতে, বর্তমান ক্রিকেটে নির্দিষ্ট কোনো বোলারকে টার্গেট করার চেয়ে ম্যাচের পরিস্থিতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, যখন রান রেট দ্রুত বাড়ানোর প্রয়োজন হয়,ধরা যাক প্রতি ওভারে ১০, ১২ বা ১৫ রান,তখন বোলার কে, সেটি বড় বিষয় হয়ে দাঁড়ায় না। তখন মূল লক্ষ্য থাকে দলকে প্রয়োজনীয় রান এনে দেওয়া।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ক্রিকেট নিয়ে নেওয়াজের বিশ্লেষণও যথেষ্ট পরিণত। তিনি মনে করেন, এই পর্যায়ে প্রতিটি বোলারই বিশ্বমানের, তাই আলাদা করে কাউকে লক্ষ্য বানানোর সুযোগ কম।
বরং প্রতিটি পরিস্থিতির জন্য আলাদা পরিকল্পনা তৈরি করাই একজন ব্যাটারের দায়িত্ব। তার ভাষায়, সাফল্য পেতে হলে কৌশলগতভাবে নমনীয় হতে হয় এবং ম্যাচের চাহিদা অনুযায়ী নিজেকে মানিয়ে নিতে হয়।
২০২৫ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি অভিষেকের পর থেকেই নেওয়াজ নিজের প্রতিভার ঝলক দেখিয়েছেন।
এখন পর্যন্ত ২৫ ম্যাচে ৪৫৭ রান করে তিনি ইতোমধ্যেই নজর কেড়েছেন ক্রিকেটবিশ্বের। যদিও ভারতের বিপক্ষে একমাত্র ম্যাচে তিনি মাত্র ৫ রান করে আউট হন, তবুও ভবিষ্যতে সেই অপূর্ণতা ঘোচানোর প্রত্যয় তার কণ্ঠে স্পষ্ট।




