ব্রাজিলের ফুটবল মানেই যেন জাদু, স্কিল আর সৃজনশীলতার এক অনন্য মিশ্রণ। সেই ধারারই নতুন এক প্রতিভার নাম এস্তেভাও উইলিয়ান। যাকে ইতিমধ্যেই অনেক ভক্তই “নয়া নেইমার” বলে ডাকতে শুরু করেছে। তবে ভক্তরা বানানোর আগে এস্তেভাওই হতে চেয়েছেন নেইমার।
সাম্প্রতিক সময়ে তুলে ধরেছেন সেই গল্প।
ব্রাজিলের রোদে পুড়ে যাওয়া এক বিকেলে, টিভির পর্দায় যখন বলটা পায়ের সঙ্গে নাচে। সেই নিজস্ব তালে বলকে নাচানো ব্যাক্তির নাম নেইমার।
আর সেই নাচের মুগ্ধ দর্শক ছিল ছোট্ট এক ছেলে, তিনি এস্তেভাও উইলিয়ান। তার কাছে নেইমার শুধু একজন ফুটবলার নন, যেন এক স্বপ্ন, এক জাদু, এক উন্মাদনা।
ছোট্ট এস্তেভাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকত টিভির সামনে। নেইমার বল ছুঁলেই তার চোখে আলো জ্বলে উঠত। একটা ড্রিবল, একটা ফ্লিক, একটা হাসি, সবকিছু যেন তার হৃদয়ে ঢেউ তুলত।
সেই ঢেউ এতটাই গভীর ছিল যে, মাঠে নামলেই সে চেষ্টা করত ঠিক সেভাবেই হাঁটতে, সেভাবেই দৌড়াতে, সেভাবেই বল ছুঁতে।
এস্তেভাও ছোটবেলায় শুধু নেইমারের খেলা দেখেই বড় হননি, বরং তাকে অনুসরণ করার চেষ্টা করেছেন প্রতিটি ছোটখাটো ব্যাপারেও।
এমনকি সেটা বুট, স্টাইল এমনকি চুলও। যেটা নিয়ে কথা বলেছেন এই উইঙ্গার নিজেই।
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকার চেলসির এই উইঙ্গার নেইমি প্রেম নিয়ে বলেছেন, “ছোটবেলায় নেইমারকে দেখতে দেখতে তার সবকিছু অনুকরণ করতে চাইতাম তার স্টাইল, চুল, এমনকি বুটও।” এই কথাগুলোতে স্পষ্ট, নেইমার তার কাছে শুধু একজন প্রিয় খেলোয়াড় ছিলেন না, বরং ছিলেন ফুটবল শেখার একটা রেফারেন্স পয়েন্ট।
একইসাথে নেইমারকে ঘিরে অনুপ্রেরণা ও ভালোবাসার গল্পও শুনান এস্তেভাও। লাতিনের সাম্বার তালে এস্তেভাও বড় হয়েছেন।
তবে ব্রাজিলের সংস্কৃতির চেয়েও এস্তেভাও এর ছোটবেলার ফুটবল মানেই ছিল যেন নেইমির নাম। সেটার গল্পও জানালেন তিনি, বললেন “ সে আমার বড় অনুপ্রেরণা। অল্প বয়স থেকে সে আমার ফুটবলে ভালোবাসা এনে দিয়েছে”
সময়ের উত্তরই বলে দেবে এস্তেভাও এর ভবিষ্যৎ কোথায় দাঁড়াবে । তবে একথা নিশ্চিত, যে ছেলেটি ছোটবেলায় তার আইডলের জুতা পর্যন্ত অনুসরণ করত, সেই ছেলেটিই একদিন হয়তো নিজের স্টাইল দিয়ে অন্যদের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে চাইবে। যে কারণে ফুটবল দুনিয়া এখন তাকিয়ে আছে এই তরুণ প্রতিভার দিকে। নেইমারের ছায়া পেরিয়ে, নিজের আলোয় কতটা উজ্জ্বল হতে পারেন এস্তেভাও উইলিয়ান, সেটাই এখন দেখার বিষয়।




