পাড়ার ছোট ছেলেটা হয়তো নতুন জার্সি কেনার জন্য টাকা জমাচ্ছে। চায়ের দোকানের সেই পরিচিত আড্ডাবাজ মানুষটি এখন থেকেই হিসাব কষছেন কোন দল কতদূর যাবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভরে যাচ্ছে প্রিয় দলের পোস্টে। কেউ বলছেন ব্রাজিল ফিরবে সিংহাসনে, কেউ বলছেন আবারও জাদু দেখাবে আর্জেন্টিনা।
আর কিছুদিন পরই বদলে যাবে চেনা আকাশ। বিকেলের নরম আলো গাঢ় হতে না হতেই ছাদের উপর উড়বে হলুদ-সবুজ আর আকাশি-সাদা পতাকা। পাড়ার মোড়ে মোড়ে জমবে তর্ক, চায়ের কাপে উঠবে ঝড়, আর রাত গভীর হলেও থামবে না ফুটবল আলোচনা। চার বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে আবারও দরজায় কড়া নাড়ছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬।
কিছুদিন পর বদলে যাবে সবার রুটিন। দিন আর রাত হয়ে যাবে একাকার। হাজার মাইল দুরের দেশ আমেরিকার লোকের সাথে একাত্মা হয়ে যাবে দেশের ফুটবল ভক্তরা। দিন আর রাত সব কাজ যাবে থেমে। ফুটবল ভক্তদের সামনে একটাই নজর। গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ, বিশ্বকাপের চেয়ে নিশ্বাস ফেলছে আপনারই ঘাড়ে।
২০২৬ সালের বিশ্বকাপকে ঘিরে উত্তেজনার কারণও আলাদা। নতুন প্রজন্মের তারকাদের সঙ্গে থাকবেন অভিজ্ঞ ফুটবলাররাও। অনেকের কাছে এটি হতে পারে শেষ বিশ্বকাপ, আবার কারও জন্য শুরু হবে নতুন ইতিহাস লেখার মঞ্চ। একদিকে মেসি, রোনালদোরা দিবেন গল্পের শেষ আচড়। আবার অন্যদিকে ইয়ামাল, ডুয়োদের থাকবে নতুন দিনের গল্প লেখার সুযোগ। সেই গল্প দেখতেই অপেক্ষা করছে পুরো ফুটবল বিশ্ব।
ভিনি রাফিনহারা হেক্সা জয়ের জন্য সেরে নিচ্ছেন শেষ প্রস্ততি। লিওনেল মেসি দ্বিতীয়বার নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ছুতে যাচ্ছেন। এমি, ডি পলরা যেন ৪ বছর আগে স্মৃতিকে ফিরিয়ে আনার চেস্টা করছেন। আর সেটার দিকেই বাড়তি নজর বিশ্বের বড় বড় ভক্তদের। এটাই গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের আসল অর্থ।
বাংলাদেশে বিশ্বকাপ মানেই উৎসব। এখানে ফুটবল শুধু খেলা নয়, এটি ভালোবাসা, আবেগ আর পরিচয়ের অংশ। একেকটি পতাকা যেন একেকটি হৃদয়ের গল্প বলে। সেই গল্পে আছে আনন্দ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা, স্মৃতি আর অদ্ভুত এক মিলনমেলা। আপনার দুয়ারে বিশ্বকাপ চলে এসেছে তো, এবার কার রঙে মাতবেন আপনি? কিংবা এবার সোনালী ট্রফির উৎসব যাবে কার কাছে। দীর্ঘদিনের এই আসরের জন্য খেলোয়াড়, আয়োজকরা প্রস্তত, আপনি প্রস্তত তো? বিশ্বকাপ মানিয়ে তো রঙে ছড়িয়ে পড়া আনন্দ, যে আনন্দ রঙিন হোক ফুটবল বিশ্ব।




