Homeফুটবলভূমিকম্পে পরিবারহারা, এতিমখানা থেকে আর্জেন্টিনা দলে—নতুন ‘মেসি’ কি এই বিস্ময়বালক?

ভূমিকম্পে পরিবারহারা, এতিমখানা থেকে আর্জেন্টিনা দলে—নতুন ‘মেসি’ কি এই বিস্ময়বালক?

- Advertisement -spot_img

হাইতির ভয়াবহ ভূমিকম্পে পরিবার হারিয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছিল একটি এতিমখানায়।

সেখান থেকে মাত্র আট মাস বয়সে দত্তক নিয়ে যাওয়া হয় আর্জেন্টিনায়। জীবনের সেই নির্মম শুরু পেছনে ফেলে আজ আর্জেন্টিনার ফুটবলের অন্যতম সম্ভাবনাময় প্রতিভা হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন স্টিফেন ‘কিকি’ রামোস।

অনেকেই ইতোমধ্যেই তাঁকে ভবিষ্যতের লিওনেল মেসি বলে আখ্যা দিতে শুরু করেছেন।

২০০৯ সালের ৩ এপ্রিল হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সে জন্ম নেওয়া রামোসের জীবন আমূল বদলে যায় ২০১০ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর।

দুর্যোগের পর এতিমখানায় আশ্রয় নেওয়া ছোট্ট শিশুটিকে পরে দত্তক নেয় আর্জেন্টিনার একটি পরিবার। নতুন দেশ, নতুন ভাষা এবং নতুন সংস্কৃতির সঙ্গে বড় হতে হতে ফুটবলই হয়ে ওঠে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয়।

মাত্র ছয় বছর বয়সে স্থানীয় এক প্রতিবেশীর নজরে আসে রামোসের অসাধারণ প্রতিভা। তাঁর হাত ধরেই যোগ দেন ভেলেস সার্সফিল্ডের একাডেমিতে।

সেখান থেকেই শুরু হয় স্বপ্নপূরণের লড়াই। দুর্দান্ত গতি, অসাধারণ ড্রিবলিং এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার দক্ষতায় খুব অল্প সময়েই কোচদের নজর কাড়েন এই উইঙ্গার।

কৈশোরেই তাঁকে নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। কারও চোখে তিনি ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মতো, আবার কেউ কেউ তাঁর মধ্যে দেখতে পান ভবিষ্যতের মেসির সম্ভাবনা।

তবে প্রতিভার পাশাপাশি কঠিন সময়ও পার করতে হয়েছে তাঁকে। ২০২৫ সালে একাধিক চোটের কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়।

অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো থেমে যাবে তাঁর অগ্রযাত্রা। কিন্তু সব বাধা পেরিয়ে ২০২৬ সালে দুর্দান্তভাবে ফিরে আসেন রামোস।

বর্তমানে ভেলেস সার্সফিল্ডের যুব দলে নিয়মিত গোল করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিচ্ছেন তিনি। যুব লিগে ইতোমধ্যেই ১২ গোল করে নজর কেড়েছেন আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-১৭ দলের কোচ দিয়েগো প্লাসেন্তের।

সেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন আর্জেন্টিনার বয়সভিত্তিক জাতীয় দলে প্রথমবারের মতো ডাক।

ডাক পাওয়ার খবরটি আসে অনলাইন ক্লাস চলাকালীন। কোচের অভিনন্দন বার্তা প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেননি রামোস। পরে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ছুটে গিয়ে দত্তক নেওয়া বাবা-মাকে জড়িয়ে ধরেন আবেগঘন মুহূর্তে।

হাইতিতে জন্ম নেওয়া প্রথম ফুটবলার হিসেবে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের কাঠামোয় জায়গা করে নিয়ে ইতিহাস গড়েছেন কিকি রামোস।

আগামী অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে তাঁর দিকে থাকবে সবার নজর। একসময় যে শিশুর ভবিষ্যৎ ছিল অনিশ্চিত, সেই কিকি রামোসই এখন আর্জেন্টিনার ফুটবলের নতুন স্বপ্ন এবং বিশ্ব ফুটবলের সম্ভাবনাময় এক উদীয়মান তারকা।

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -spot_img
Stay Connected
16,985FansLike
2,458FollowersFollow
61,453SubscribersSubscribe
Must Read
- Advertisement -spot_img
Related News
- Advertisement -spot_img

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here