কোনো আয়োজন নয়,নয় কোনো আলাদা সংবর্ধনা,সাদামাটা এক পোস্ট ম্যাচ কনফারেন্সেই নেইমার ইতি টানলেন তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের।
মঙ্গলবার কোপা সুদামেরিকানায় ভেনেজুয়েলার ক্লাব ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালের বিপক্ষে সান্তোসের ৪-২ গোলের জয়ের পর নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার বিষয়টি নিশ্চিত করেন নেইমার।
জাতীয় দলকে বিদায় জানিয়ে নেইমার বলেন, জাতীয় দলের সঙ্গে আমার পথচলা শেষ। আমি ইতিহাস গড়েছি, অনেক ভালো মুহূর্ত পেয়েছি। হলুদ জার্সির জন্য নিজের রক্ত, জীবন সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি। কিন্তু এখন আর চালিয়ে যেতে চাই না।
অবশ্য বেশ অবহেলতই ভাবতে পারেন তিনি।পুরো বিশ্বকাপে কোচ তাকে সুযোগ দিয়েছেন মাত্র ৩৮ মিনিট! শুরুর ম্যাচে ফুল ফিট না থাকলেও পরে পূর্ন ফিট হন তিনি,কিন্তু তাতে লাভ হয়নি।কার্লোর ব্যাক্তিগত ইগোর কারনে তাকে নামানো হয়নি মাঠে।নিজের সাবেক ক্লাব শীষ্যদের অতিরিক্ত প্রাধন্য দিয়ে নেইমারকে সাইড বেঞ্চেই রেখেছেন বেশি সময়।অথচ এই নেইমার ব্রাজিলের বিশ্বকাপে ভুমিকা রাখার জন্য কিইবা না করেছেন!
কবিদের যত বিশেষণ, যত উপেক্ষার গল্প
সব কিছু মিলিয়ে একটি পত্র লিখলেও হয়তো পুরো অনুভূতিটা ব্যাক্ত হবে না।অথচ
ইঞ্জুরির আড়ালে রাখা শরীর নিয়ে যতটা দিয়েছেন ফুটবল বিশ্বকে,কিংবা গত প্রায় দেড় জুগে ব্যাক্তিগত পারফরম্যান্সে যতটা মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন, তা ফুটবল প্রেমীদের হাজারো রাত জাগার কারনতো অবশ্যই।কারো কারো জন্যেতো ফুটবলটা দেখার কারনই তিনি।বর্তমান বিশ্বের বিস্ময় লামিন ইয়ামালের এই আইডল,
১৯৯২ সালে ব্রাজিলের মগি দাস ক্রুজেসে জন্ম গ্রহণ ।মাত্র ৯ বছর বয়সে পেলের স্মৃতিবিজড়িত ক্লাব সান্তোসে নাম লিখিয়েছিলেন। ২০১৩ মৌসুমে সান্তোসের সঙ্গে গাঁটছড়া ছিন্ন করে যোগ দিয়েছেন স্বপ্নের ক্লাব বার্সেলোনায় এরপর রেকর্ড গড়া দামে পাড়ি জমান পিএসজিতে,সেখান থেকে আল হিলালে।
আল হিলাল থেকেই যেন ক্যারিয়ারের উলটো গোননা শুরু হয় নেইমির।একের পর এক ইঞ্জুরীতে বেশিরভাগ ছিলেন মাঠের বাহিরে,শুধুমাত্র এই বিশ্বকাপ খেলার জন্যই সান্তোসে ফেরেন,নিজের উপর অমানবিক অত্যাচার চালান দ্রুত রিকোভার করতে! ছেড়ে দেন সকল বাযে অভ্যাসও।তবে তাতে লাভ হয়নি কিছুই।
সেইতো চোখের জলেই সময়ের আগেই,সুযোগের অভাবেই বিদায় নিতে হচ্ছে তাকে।
তবে গোটা ফুটবল বিশ্ব জানে ১টি ক্লাবের কোচ হিসেবে খ্যাতি পাওয়া কোনো কোচের যোগ্যতা নেই নেইমির যোগ্যতা মাপার। ব্যাক্তিগত কিছু না জিতে তিনি জিতেছেন মানুষের হৃদয়,তাই তিনি আজীবন থাকবেন মানুষের হৃদয়েই।




