নিজের ক্যারিয়ারে অনেক উত্থান পতন ছিল। একটা সময় ছিলেন ম্যানচেস্টার সিটির নিয়মিত তারকা খেলোয়াড়।
এরপর মাঠের বাইরে নানা অভিযোগে ক্লাব থেকে বহিস্কৃত হয়েছেন, এমনকি যেতে হয়েছে জেলেও। সেই অভিযোগ থেকে নির্দোষ হয়ে এসেছিলেন, বর্তমানে চালিয়ে যাচ্ছেন ফুটবলও। জীবনের গল্পে অনেক কিছুই বলার মত আছে বেঞ্জামিন মেন্ডির।
কিন্ত সেই মেন্ডি এমন কাজ করবেন, সেটা ভুলেও ভাবতে পারেনি কেউ। ফ্রাঞ্চের সাবেক এই ফুটবলার এবার বিক্রি করে দিলেন বিশ্বকাপ শিরোপাই। নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জনকে যেন হেলায় দিলেন মেন্ডি।
২০১৮ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপ জয় করে ফ্রাঞ্চ দল। সেই আসরের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন মেন্ডি।
এমনকি ফ্রাঞ্চের হয়ে ঐ একবারই বিশ্বকাপে সুযোগ পান মেন্ডি। জাতীয় দলের হয়ে সর্বসাকুল্যে খেলেন ১১ ম্যাচ। এমন একজনের কাছে তো বিশ্বকাপ শিরোপার মুল্য সাধারণের চেয়েও হওয়ার কথা দামি।
তবে মেন্ডি সেটা বোধ করলেন না। তিনি নিজের কাছে থাকা রেপ্লিকা ট্রফিটাই তুললেন নিলাম।
ফ্রাঞ্চের নিলাম থেকে অবশ্য ভালোই অর্থ পেয়েছেন মেন্ডি। মোট ৬২ হাজার ডলারে বিক্রি হয় এই রেপ্লিকা বিশ্বকাপ, যা বাংলাদেশের টাকায় ৭৭ লাখ টাকা। কিন্ত কি কারণেই বা এমন সিদ্ধান্ত মেন্ডির?
মেন্ডি এমন সিদ্ধান্তে নিজের ইচ্ছাকেই দেন প্রাধান্য। একইসাথে আরো একটি বিষয় নিয়ে কথা বলেন, যা বিষয়টিকে বিতর্ক ও অবাক করা তালিকায় এনেছে। বিশ্বকাপ শিরোপা আলমারিতে অনেক জায়গা দখল করেছে, সেই জায়গা কমাতেই নাকি এমন সিদ্ধান্ত বলে জানান মেন্ডি।
এ বিষয়ে মেন্ডি বলেন “ আমার ট্রফি এটা। আমি যা ইচ্ছা করতে পারব। এটি আলমারিতে অনেক জায়গা দখল করে রেখেছিল, তাই জায়গা কমাতে বিক্রি করেছি”।
বর্তমানে পোলান্ডের ক্লাব পোগোন সেজিনে খেলেন এই ফ্রেঞ্চ ফুলব্যাক। সেখানে বছরে ১ মিলিয়ন অর্থ আয় করেন মেন্ডি, যা বিশ্বকাপ শিরোপা থেকে পাওয়ার টাকার চেয়ে অনেক গুণেই বেশি। নিজের বিতর্ক বা দুসময় থেকে ফিরে ফুটবলেই নিয়মিত মেন্ডি।
এর আগে সিটির পর খেলেছেন এফসি জুরিখ ও লরেন্তের মত ক্লাবে। অর্থ্যাৎ ম্যাচ খেলছেন না বা অর্থাভাবে আছে, এমনটা বলার সুযোগ নেই মোটেও।
এরপরও মেন্ডির এমন সিদ্ধান্ত বিতর্কের জন্ম দিবেই। বিশেষ করে যার জীবনে আছে এত চড়াই উতরাই, জাতীয় দলের হয়ে যিনি এক বিশ্বকাপ খেলেই জয় করেন শিরোপা, এরপর আর বিশ্বকাপেই নামতে পারেননা, তার এমন সিদ্ধান্ত হতবাকই করবে সবাইকে।
আলমারিতে জায়গার জন্য হোক বা অন্য কারণে, মেন্ডির কারণে মেন্ডির কান্ড ভক্তদের কাছে তাকে নিয়ে বিতর্ক যে তৈরি করবে, তাতে নেই সন্দেহ।




