২০২২ সালে রোনালদোকে দলে ভেড়ানোর সময় বিশ্ব ফুটবলে আলোড়ন তুলেছিল সৌদি ক্লাব আল নাসের।
ইতিহাসের অন্যতম বড় চুক্তিতে পর্তুগিজ মহাতারকাকে নিজেদের দলে আনে তারা। অন্যদিকে কয়েক মাস পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন লিওনেল মেসি।
দুই মহাতারকার আগমনে দুই ক্লাবই বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এলেও অর্থনৈতিক দিক থেকে দুই ক্লাবের গল্প যেন একেবারেই ভিন্ন।
মেসির আগমণের পর বদলে যায় ইন্টার মায়ামির চিত্র। স্টেডিয়ামের টিকিট মুহূর্তেই বিক্রি হয়ে যায়, জার্সির চাহিদা আকাশছোঁয়া হয় এবং নতুন নতুন স্পন্সর যুক্ত হতে থাকে। সব মিলিয়ে ক্লাবটির আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
মেসির আগমনের আগে ক্লাবটির বার্ষিক আয় ছিল প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার। বর্তমানে সেটি বেড়ে প্রায় ২০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, অর্থাৎ আয় প্রায় সাড়ে তিন গুণ হয়েছে।
একই সময়ে ক্লাবটির মূল্যও প্রায় ৫৮৫ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ১.৩৫ থেকে ১.৪৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। অর্থ্যাৎ এখানেও মায়ামি আয় করেছে প্রায় ৩ গুণ পরিমাণ অর্থ।
শুধু অর্থনৈতিক উন্নতিই নয়, মাঠেও মেসির প্রভাব ছিল চোখে পড়ার মতো। ইন্টার মায়ামিকে ইতিহাসের প্রথম বড় ট্রফি জেতান তিনি।
এরপর ক্লাবটি এমএলএসে নিজেদের অন্যতম শক্তিশালী দলে পরিণত হয়।
বর্তমানে এমএলএসের সেরা ক্লাবের একটি মায়ামি, নিয়মিত বড় বড় সব শিরোপা নিজেদের দখলে আনছে। অথচ মেসি আসার আগে টেবিলের নিম্নসারির ক্লাবই ছিল মায়ামি।
অন্যদিকে উলটো চিত্র সৌদি ক্লাব আল নাসেরের। ২০২৩ সালে রোনালদোকে দলে ভেড়ানোর পর আল নাসের তাকে বছরে প্রায় ২০ কোটি ইউরো মূল্যের চুক্তি দেয়, যা বাংলাদেশের টাকায় দ্বারা ২৮০০ কোটি টাকা।
এটি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল চুক্তিগুলোর একটি। বেতন, বোনাস ও বাণিজ্যিক সুবিধা মিলিয়ে এই বিপুল ব্যয় ক্লাবটির আর্থিক চাপ অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিভিন্ন আর্থিক প্রতিবেদনে আল নাসেরের ঋণ ও দায়ও বেড়েছে বলে উঠে এসেছে। ইয়াহু স্পোর্টসের মতে ঋণের পরিমাণ ২৮০ মিলিয়ন ডলারের মত, কারো মতে সংখ্যাটা ৩০০ মিলিয়ন ডলারের মত।
ইয়াহু স্পোর্টসের মতে রোনালদো বা অন্যদের পিছনে কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ হলেও সাফল্য আসছেনা সেভাবে।
যার প্রভাব পড়েছে ইনভেস্টমেন্টে। ফলে বর্তমানে লসে থেকে ঋণ টানতে হচ্ছে ক্লাবটির। গত ৩ বছরে রোনালদো এসে মাত্র একবার লীগ শিরোপা পান, একবারও পাননা মহাদেশীয় শিরোপা। যা প্রভাব ফেলে ক্লাবটির অর্থনৈতিক ক্ষতির জন্য।
মেসি ও রোনালদোর প্রভাব তাই স্পষ্টই এখানে। যেখানে একজন এসে ক্লাবকে যেমন নাম, খ্যাতি, মাঠের সাফল্য ও অর্থনৈতিক ভিত্তি এনে দেন, অন্যজন মাঠের সাফল্য না পেয়ে ক্লাবের ঋণের বোঝাকে দেন বাড়িয়ে।
আর এটাই যেন আরো একদিকে মেসিকে এগিয়ে রাখবে রোনালদোর চেয়ে।




